দেবীগঞ্জে হ্যাভেন্স ড্রিম স্কুল অ্যান্ড কলেজের কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত
- আপডেট সময় : ০২:২৮:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬ ১৭৭ বার পড়া হয়েছে
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে হ্যাভেন্স ড্রিম স্কুল অ্যান্ড কলেজের আয়োজনে কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সাফল্যের স্বীকৃতি প্রদানের পাশাপাশি মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ, নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গঠনে অভিভাবকদের দায়িত্ব ও করণীয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইন্দ্রজিৎ সাহা। বিশেষ অতিথি ছিলেন মিসরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শাইখ মুফতি আব্দুল মালেক আজহারী। এতে সভাপতিত্ব করেন হ্যাভেন্স ড্রিম স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মো. এ বি সিদ্দিক (মামুন)। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মো. লিয়াকত আলী বসুনিয়া।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে অধ্যক্ষ মো. লিয়াকত আলী বসুনিয়া বলেন, শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা প্রদান এবং তাদের মেধা ও মননের বিকাশ ঘটানোই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম লক্ষ্য। প্রতিটি শিক্ষার্থীর মধ্যেই আলাদা সম্ভাবনা রয়েছে। যথাযথ পরিচর্যা, নিয়মিত অনুশীলন ও সঠিক দিকনির্দেশনার মাধ্যমে তাদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটানো সম্ভব। এ জন্য শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়ার মাধ্যমে অন্য শিক্ষার্থীরাও পড়াশোনায় মনোযোগী হতে এবং ভালো ফলাফল অর্জনে উৎসাহিত হবে। পাশাপাশি অভিভাবক সমাবেশের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের সমস্যা, সম্ভাবনা ও উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও ইন্দ্রজিৎ সাহা বলেন, শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ। শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন করলেই চলবে না; তাদের সৎ, দায়িত্বশীল, মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতনতা ও সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, সন্তানদের পড়াশোনার নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া, সময়ের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং ভালো-মন্দের পার্থক্য বোঝানোর ক্ষেত্রে পরিবারকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। শিক্ষার্থীদের মেধা ও যোগ্যতা বিকাশে বিদ্যালয়ের পরিবেশের পাশাপাশি পারিবারিক পরিবেশও ইতিবাচক হওয়া প্রয়োজন। শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা থাকলে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে তা কাটিয়ে ওঠা সহজ হবে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মো. এ বি সিদ্দিক (মামুন) তাঁর বক্তব্যে শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতা, মানবিকতা ও আদর্শিক মূল্যবোধের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি চরিত্র গঠন, শৃঙ্খলা মেনে চলা এবং পরিবার, শিক্ষক ও সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।
অভিভাবক সমাবেশে বক্তারা বলেন, সন্তানের শিক্ষার দায়িত্ব শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর ছেড়ে দিলে চলবে না। বাড়িতে পড়াশোনার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি, নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করা, মোবাইল ফোন ও প্রযুক্তির ব্যবহারে সচেতনতা এবং সন্তানদের মানসিক অবস্থার প্রতি যত্নশীল হওয়া অভিভাবকদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে তাদের আগ্রহ, সামর্থ্য ও সৃজনশীলতা বিকাশের সুযোগ দিতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, ভালো ফলাফলের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আচরণ, সামাজিক মূল্যবোধ, সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধের বিকাশেও গুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে সুসম্পর্ক ও সমন্বয় গড়ে উঠলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, পড়াশোনার আগ্রহ এবং সামগ্রিক অগ্রগতি আরও বাড়বে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বিভিন্ন শ্রেণিতে ভালো ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থী এবং গত প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট, সনদপত্র ও বৃত্তির অর্থ তুলে দেন অতিথিরা। এ সময় শিক্ষার্থীদের সাফল্যে আনন্দ প্রকাশের পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল অর্জন এবং পড়াশোনায় ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, শিক্ষার্থীদের সাফল্যের স্বীকৃতি প্রদান এবং অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং আগামী দিনের যোগ্য, মানবিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তাঁরা।























