ঢাকা ০২:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo অর্থাভাবে থমকে যাওয়ার পথে শুভর পড়াশোনা, সহায়তায় এবিজি ফাউন্ডেশন Logo দেবীগঞ্জে স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পত্তি দখলের অভিযোগ  Logo বিদেশে পড়াশোনার সুযোগ জানতে বসছে আন্তর্জাতিক শিক্ষা মেলা Logo অটিজমে অবদান থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট, আন্তর্জাতিক দুই স্বীকৃতি ইয়াশা সোবহানের Logo বিশ্ববিদ্যালয় ফুটবলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও সম্প্রীতির মঞ্চ এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ Logo এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬ শুরু, উদ্বোধনে সাবেক তারকা ক্রিকেটাররা Logo ইউরোপে পোশাকের বাজারে মন্দাভাব, উদ্বেগে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা Logo ৩০ লাখ টাকার প্রাইজমানি, আজ শুরু মাঠের লড়াই Logo বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় জাপানের সহযোগিতা আরও বিস্তারের প্রত্যাশা Logo এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপের ক্রিকেট ও ফুটবল ম্যাচের সময়সূচি একনজরে

রাজনীতির সমীকরণ বড়ই জটিল,

উত্তরের সংবাদ
  • আপডেট সময় : ১২:৩৭:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ১৫১ বার পড়া হয়েছে

রাজনীতির সমীকরণ বড়ই জটিল। কখনো কখনো এই জটিল সমীকরণ দেখে মনে হয়, রাজনীতি থেকে একটু দূরে থাকাই হয়তো ভালো। কারণ রাজনীতির বাইরে মানুষের যে সম্পর্ক—সেখানে থাকে আবেগ, ভালোবাসা, আত্মিক বন্ধন, পারস্পরিক আস্থা ও দীর্ঘদিনের পরিচয়। এসব সম্পর্ককে কেবল রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ দিয়ে বিচার করা যায় না।

গতকাল (৭ অক্টোবর)  বুধবার সাংবাদিক হরিশ চন্দ্র রায় তার নিজের ফেসবুকে রাজনীতির সমীকরণ  নিয়ে একটা পোস্ট দেন।

মানুষের ব্যক্তিগত সম্পর্ককে যখন রাজনৈতিক সমীকরণের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা শুরু হয়, তখন একসময় পারস্পরিক বিশ্বাসের জায়গাটিই দুর্বল হয়ে যেতে পারে। অথচ রাজনীতির মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক; কিন্তু সেই মতপার্থক্য যেন মানুষের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা ও সম্পর্ককে নষ্ট না করে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

কেউ পরিস্থিতি বুঝে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে যেতে পারেন, দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে অস্বীকার করতে পারেন—সেটা তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সবাই কি সবার মতো? আমরা কি কেউ বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি, জীবনের কোনো না কোনো সময়ে এমন পরিস্থিতির ব্যতিক্রম ঘটাইনি?

রাজনীতির বাস্তবতায় কখনো কখনো এমন ঘটনাও চোখে পড়ে, যা সত্যিই ভাবিয়ে তোলে। যে তরুণকে রাজপথে কোনো একটি রাজনৈতিক দলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে দেখা যায়, কোনো এক বিপদের সময়ে তার পাশে দাঁড়ান বিপরীত রাজনৈতিক মতাদর্শের একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। আবার ক্ষমতার সময়ে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা কাউকে আইনের আওতায় আনার প্রশ্ন উঠলেও ব্যক্তিগত সম্পর্ক, সামাজিক যোগাযোগ কিংবা পারিবারিক সমীকরণ সামনে চলে আসে।

অর্থাৎ, রাজনীতির ময়দানে মানুষ একে অপরের প্রতিপক্ষ হতে পারেন, কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে সেই মানুষগুলোর  সম্পর্কের হিসাব অনেক বেশি জটিল।

একই পরিবারের দুই ভাইয়ের কথাই ধরা যাক দুজন সারাদিন একসঙ্গে ব্যবসা করেন। বড় ভাই হয়তো বললেন

“তুই একটু দোকানে থাকিস, আমি মিছিলটা করে আসি।”

ছোট ভাই হেসে বলল— “তাড়াতাড়ি আসিস। সন্ধ্যায় কিন্তু আমার পছন্দের প্রার্থী আসবে।”

দুজনের রাজনৈতিক পছন্দ আলাদা, কিন্তু পারিবারিক সম্পর্ক অটুট। রাজনীতি একদিকে, সংসার আর সম্পর্ক অন্যদিকে। এমন পরিবারও আছে, যেখানে স্বামী এক রাজনৈতিক আদর্শের কর্মসূচিতে ব্যস্ত, আর স্ত্রী অন্য রাজনৈতিক মতাদর্শের কর্মসূচিতে অংশ নেন। কিন্তু দিন শেষে যখন দুজন ঘরে ফেরেন, তখন রাজনৈতিক তর্কের চেয়ে সংসারের বাস্তবতাই বড় হয়ে ওঠে।

প্রশ্ন আসে—“আজ রান্না করবে কে? নাকি হোটেল থেকে খাবার আনব?” রাজনীতির এই বৈপরীত্যের মধ্যেও মানবিক সম্পর্ক টিকে থাকে।

আত্মীয়তার সমীকরণও কম মজার নয়। এক সময় এক সরকারের আমলে চাচার সম্বন্ধি ছিলেন মন্ত্রী। সময় বদলাল, সরকার বদলাল। পরবর্তী সময়ে দেখা গেল, অন্য সরকারের আমলে চাচাতো ভাইয়ের শ্বশুর মন্ত্রী। তখন হাসতে হাসতে বলা যায়।

“আমার তালই কিন্তু মন্ত্রী!”এখানেই হয়তো রাজনীতির সবচেয়ে বড় বাস্তবতাগুলোর একটি লুকিয়ে আছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলায়, ক্ষমতার কেন্দ্র বদলায়, রাজনৈতিক পরিচয় বদলায়; কিন্তু আত্মীয়তা, বন্ধুত্ব ও দীর্ঘদিনের সামাজিক সম্পর্ক এত সহজে বদলায় না। তাই আমার মনে হয়, রাজনীতিকে রাজনীতির জায়গায় এবং ব্যক্তিগত সম্পর্ককে ব্যক্তিগত জায়গায় রাখা উচিত।

কারণ আজ যে মানুষটি আপনার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, কাল সে-ই হয়তো আপনার আত্মীয়, প্রতিবেশী, বন্ধু, সহকর্মী কিংবা বিপদের সময়ে পাশে দাঁড়ানো একজন মানুষ।

রাজনীতি আসবে, যাবে। ক্ষমতার পালাবদল হবে পতাকা বদলাবে, স্লোগান বদলাবে। কিন্তু মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্কগুলো যেন এত সহজে বদলে না যায়।

রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে। মতের অমিল গণতান্ত্রিক সমাজের স্বাভাবিক অংশ। কিন্তু সেই মতপার্থক্য যেন পারস্পরিক শ্রদ্ধা, মানবিকতা ও সামাজিক বন্ধনকে ধ্বংস না করে—এই জায়গাটিই আমাদের মনে রাখা দরকার।

কারণ শেষ পর্যন্ত রাজনীতির পরিচয়ের আগে আমরা সবাই মানুষ। আর মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয়—মানুষের পাশে থাকা।

হরিশ চন্দ্র রায়

উপদেষ্টা, উত্তরের সংবাদ

Share this news as a Photo Card

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

07 October 2026

রাজনীতির সমীকরণ বড়ই জটিল,

www.uttorersongbad.com

রাজনীতির সমীকরণ বড়ই জটিল,

আপডেট সময় : ১২:৩৭:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

রাজনীতির সমীকরণ বড়ই জটিল। কখনো কখনো এই জটিল সমীকরণ দেখে মনে হয়, রাজনীতি থেকে একটু দূরে থাকাই হয়তো ভালো। কারণ রাজনীতির বাইরে মানুষের যে সম্পর্ক—সেখানে থাকে আবেগ, ভালোবাসা, আত্মিক বন্ধন, পারস্পরিক আস্থা ও দীর্ঘদিনের পরিচয়। এসব সম্পর্ককে কেবল রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ দিয়ে বিচার করা যায় না।

গতকাল (৭ অক্টোবর)  বুধবার সাংবাদিক হরিশ চন্দ্র রায় তার নিজের ফেসবুকে রাজনীতির সমীকরণ  নিয়ে একটা পোস্ট দেন।

মানুষের ব্যক্তিগত সম্পর্ককে যখন রাজনৈতিক সমীকরণের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা শুরু হয়, তখন একসময় পারস্পরিক বিশ্বাসের জায়গাটিই দুর্বল হয়ে যেতে পারে। অথচ রাজনীতির মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক; কিন্তু সেই মতপার্থক্য যেন মানুষের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা ও সম্পর্ককে নষ্ট না করে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

কেউ পরিস্থিতি বুঝে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে যেতে পারেন, দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে অস্বীকার করতে পারেন—সেটা তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সবাই কি সবার মতো? আমরা কি কেউ বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি, জীবনের কোনো না কোনো সময়ে এমন পরিস্থিতির ব্যতিক্রম ঘটাইনি?

রাজনীতির বাস্তবতায় কখনো কখনো এমন ঘটনাও চোখে পড়ে, যা সত্যিই ভাবিয়ে তোলে। যে তরুণকে রাজপথে কোনো একটি রাজনৈতিক দলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে দেখা যায়, কোনো এক বিপদের সময়ে তার পাশে দাঁড়ান বিপরীত রাজনৈতিক মতাদর্শের একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। আবার ক্ষমতার সময়ে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা কাউকে আইনের আওতায় আনার প্রশ্ন উঠলেও ব্যক্তিগত সম্পর্ক, সামাজিক যোগাযোগ কিংবা পারিবারিক সমীকরণ সামনে চলে আসে।

অর্থাৎ, রাজনীতির ময়দানে মানুষ একে অপরের প্রতিপক্ষ হতে পারেন, কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে সেই মানুষগুলোর  সম্পর্কের হিসাব অনেক বেশি জটিল।

একই পরিবারের দুই ভাইয়ের কথাই ধরা যাক দুজন সারাদিন একসঙ্গে ব্যবসা করেন। বড় ভাই হয়তো বললেন

“তুই একটু দোকানে থাকিস, আমি মিছিলটা করে আসি।”

ছোট ভাই হেসে বলল— “তাড়াতাড়ি আসিস। সন্ধ্যায় কিন্তু আমার পছন্দের প্রার্থী আসবে।”

দুজনের রাজনৈতিক পছন্দ আলাদা, কিন্তু পারিবারিক সম্পর্ক অটুট। রাজনীতি একদিকে, সংসার আর সম্পর্ক অন্যদিকে। এমন পরিবারও আছে, যেখানে স্বামী এক রাজনৈতিক আদর্শের কর্মসূচিতে ব্যস্ত, আর স্ত্রী অন্য রাজনৈতিক মতাদর্শের কর্মসূচিতে অংশ নেন। কিন্তু দিন শেষে যখন দুজন ঘরে ফেরেন, তখন রাজনৈতিক তর্কের চেয়ে সংসারের বাস্তবতাই বড় হয়ে ওঠে।

প্রশ্ন আসে—“আজ রান্না করবে কে? নাকি হোটেল থেকে খাবার আনব?” রাজনীতির এই বৈপরীত্যের মধ্যেও মানবিক সম্পর্ক টিকে থাকে।

আত্মীয়তার সমীকরণও কম মজার নয়। এক সময় এক সরকারের আমলে চাচার সম্বন্ধি ছিলেন মন্ত্রী। সময় বদলাল, সরকার বদলাল। পরবর্তী সময়ে দেখা গেল, অন্য সরকারের আমলে চাচাতো ভাইয়ের শ্বশুর মন্ত্রী। তখন হাসতে হাসতে বলা যায়।

“আমার তালই কিন্তু মন্ত্রী!”এখানেই হয়তো রাজনীতির সবচেয়ে বড় বাস্তবতাগুলোর একটি লুকিয়ে আছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলায়, ক্ষমতার কেন্দ্র বদলায়, রাজনৈতিক পরিচয় বদলায়; কিন্তু আত্মীয়তা, বন্ধুত্ব ও দীর্ঘদিনের সামাজিক সম্পর্ক এত সহজে বদলায় না। তাই আমার মনে হয়, রাজনীতিকে রাজনীতির জায়গায় এবং ব্যক্তিগত সম্পর্ককে ব্যক্তিগত জায়গায় রাখা উচিত।

কারণ আজ যে মানুষটি আপনার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, কাল সে-ই হয়তো আপনার আত্মীয়, প্রতিবেশী, বন্ধু, সহকর্মী কিংবা বিপদের সময়ে পাশে দাঁড়ানো একজন মানুষ।

রাজনীতি আসবে, যাবে। ক্ষমতার পালাবদল হবে পতাকা বদলাবে, স্লোগান বদলাবে। কিন্তু মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্কগুলো যেন এত সহজে বদলে না যায়।

রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে। মতের অমিল গণতান্ত্রিক সমাজের স্বাভাবিক অংশ। কিন্তু সেই মতপার্থক্য যেন পারস্পরিক শ্রদ্ধা, মানবিকতা ও সামাজিক বন্ধনকে ধ্বংস না করে—এই জায়গাটিই আমাদের মনে রাখা দরকার।

কারণ শেষ পর্যন্ত রাজনীতির পরিচয়ের আগে আমরা সবাই মানুষ। আর মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয়—মানুষের পাশে থাকা।

হরিশ চন্দ্র রায়

উপদেষ্টা, উত্তরের সংবাদ

Share this news as a Photo Card