ভারত কি বাংলাদেশের বন্ধু, কি বলে সমীকরণ
- আপডেট সময় : ১২:৩৬:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০৩ বার পড়া হয়েছে
ভারত কি বাংলাদেশের বন্ধু, কি বলে সমীকরণ: ছবি সংগৃহীত
সার্চ করে উইকিপিডিয়ায় দেখা যায় মানবাধিকার সংগঠন “অধিকার” বলছে ২০০০সালের পরে এক দশকে শুধু এই বাংলাদেশের সীমান্তে হামলা চালিয়েই ১৫০০জনেরও বেশি বেসামরিক মানুষ হত্যা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। ফেলানীকে হত্যা করে কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রেখেছিল যা পৃথিবীর পৈশাচিক সীমান্ত হত্যার একটি।
ভারতের হিন্দুত্ববাদী সরকার ও পুলিশ অভ্যন্তরে করে মুসলিম হত্যা আর বিএসএফ ও সেনাবাহিনী প্রতিবেশী দেশের সীমান্তে চালায় বর্বরোচিত হামলা। অভ্যন্তরে জ্বলছে কাশ্মীর, গুজরাট, মুম্বাই, আসাম, ইউপি, দিল্লি ও সেভেন সিস্টার্স সহ নানান এলাকা আর সীমান্তে অশান্ত প্রতিবেশী নেপাল, চীন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান!
ভারতের খবরদারি, প্রভূত্ব আর বর্বরতার সংক্ষিপ্ত ফিরিস্তি যদি আলোচনা করি তবে সহজেই বুঝা যাবে বাংলাদেশের মানুষ কেন ভারতকে বন্ধু মনে করে না।
২০২০সালের ১৫জুন লাদাখের গালওয়ানে চীনের পিটুনি খেয়ে ভারতীয় বাহিনীর ২০জন জোয়ান যখন মারা যায় ঠিক তখনও বাংলাদেশের সীমান্তে হত্যা চালিয়েছিল বিএসএফ!
“অধিকার” বলছে বাংলাদেশের সীমান্তে হামলা চালিয়ে ২০০০সাল থেকে ২০১১পর্যন্ত ১৫০০জনকে আর ২০১১সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৬মাসে ১৭জন বাংলাদেশিকে হত্যা করেছে ভারতীয় বাহিনী। এ সময় ফেলানী খাতুনকে হত্যা করে কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রেখেছিল যা বিশ্ববিবেককেও নাড়া দিয়েছিল কিন্তু সামান্য অনুশোচনাটুকুও ছিল না ভারতীয় বাহিনীর।
আইন ও সালিশ কেন্দ্র, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং অধিকারের বরাত দিয়ে উইকিপিডিয়া বলছে গত দশ বছরে বাংলাদেশের সীমান্তে হামলা চালিয়ে ১০০০ জনেরও বেশি মানুষকে হত্যা করেছে ভারত। ২০০৭ সাল থেকে ২০১২ সালের ভেতর হত্যা করেছে ৪২জনকে। ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ পর্যন্ত পাঁচ বছরে বাংলাদেশের সীমান্তে ভারতীয় বাহিনী ৩শ’ ১২ বার হামলা চালিয়ে হত্যা করেছে ১২৪ জনকে!
উইকিপিডিয়া আরও তথ্য দিচ্ছে ভারতীয় বাহিনী ১৯৯৬ সালে ১৩০ বার হামল চালিয়ে হত্যা করেছে ১৩জন। ১৯৯৭সালে ৩৯বার হামলা চালিয়ে ১১জন, ১৯৯৮সালে ৫৬ বার হামলায় ২৩জন, ১৯৯৯ সালে ৪৩ বার হামলা চালিয়ে ৩৩জন এবং ২০০০সালে ৪২বার হামলা চালিয়ে ৩৯জন বাংলাদেশিকে হত্যা করেছে ভারতীয় বাহিনী।
২০১২সালে জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশে ৩৮ জনকে খুন এবং ৫৮জনকে অপহরণ করেছে। ডিসেম্বরে ৭দিনের ব্যবধানে বাংলাদেশে ঢুকে ৩জন বাংলাদেশিকে ধরে নিয়ে গেছে।
২০১৩ সালে ২৭ জন, ২০১৪ সালে ৩৩ জনকে হত্যা, ৬৮ জনকে আহত ও ৫৮ জনকে অপহরণ করেছে এবং ২০১৫ সালে ৪৫ জন বাংলাদেশিকে হত্যা করেছে ভারতীয় বাহিনী বিএসএফ।
৫ই জানুয়ারি ২০২৬শে সময়ের আলোয় প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবী করা হয় ২০২০সালে শুধু এক বছরেই সীমান্ত হত্যা হয়েছেন ৫১জন বাংলাদেশি। এ ছাড়া ২০২৪ সালে ২৬জন, ২৩সালে ৩০জন, ২০২২সালে ২৩জন, ২১সালে ১৭জন, ২০১৮সালে ১৫জন, ২০১৭সালে ৩০জন এবং ২০১৬সালে ২৮জন নিহত হন।
২৫শে জানুয়ারি ২০২০সালে সীমান্ত আতঙ্ক কতকাল শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে দৈনিক সমকাল, সেখানে দাবি করা হয় মাত্র ২৫ দিনেই সীমান্তে ভারত কর্তৃক হত্যার শিকার হন ১০জন বাংলাদেশি। আর আগের বছর ২০১৯শে হত্যা হন ৩৮জন বাংলাদেশি।
১৩ই জানুয়ারি ২০২৫শে ঢাকা প্রকাশে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সীমান্তে বিএসএফের বর্বরতায় ২০১৪ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত নিহত ২৮৯জন বাংলাদেশি।
যাদের হাত বাংলাদেশির রক্তে রক্তাক্ত, বাংলাদেশির খুনে রঞ্জিত তারা কীভাবে বাংলাদেশের বন্ধু হতে পারে? এজন্যই হয়তো এখন বাংলাদেশের মানুষ ভারতকে বন্ধু হিসেবে নয়, দেখে সন্দেহের চোখে!
লেখক
কবি, কথাসাহিত্যিক, গবেষক ও উপস্থাপক
ইমাম ও খতীব, বিরুলিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ঢাকা
সাহিত্য সম্পাদক, জাতীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র
























