নীলফামারীর একুইডাক্ট ঘিরে পর্যটনের হাতছানি নিচে নদী
- আপডেট সময় : ১২:৪৬:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২০ বার পড়া হয়েছে
নীলফামারীর একুইডাক্ট ঘিরে পর্যটনের হাতছানি
নিচে নদী, ওপরে ক্যানেল—দুই জলধারার অপূর্ব খেলা
অপরূপ নির্মাণশৈলী দেখতে ভিড়, নেই ন্যূনতম সুবিধা
দূর থেকে দেখলে মনে হবে নদীর ওপর নির্মিত সাধারণ কোনো সেতু। কিন্তু কাছে গেলেই চোখে পড়ে ব্যতিক্রমী দৃশ্য—নিচ দিয়ে বয়ে যাচ্ছে যমুনেশ্বরী নদীর স্রোত, আর ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বগুড়া সেচ ক্যানেলের পানি। প্রকৌশলশৈলীর এই অনন্য স্থাপনাটির নাম ‘একুইডাক্ট’।
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার বাহাগিলীরঘাটে অবস্থিত দেশের একমাত্র এই একুইডাক্টটি ইতোমধ্যে দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। তবে পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এখানে নেই বসার জায়গা, শৌচাগারসহ ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
উপজেলা প্রশাসন এলাকাটিকে পর্যটন উপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দিলেও নিজেদের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
তিস্তা ব্যারেজ সেচ প্রকল্পের আওতায় ২০১০ সালে একুইডাক্টটি নির্মাণ করা হয়। বগুড়া সেচ ক্যানেলের পানি যমুনেশ্বরী নদী পার করার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড এটি নির্মাণ করে। একুইডাক্টটির দৈর্ঘ্য ২১৬ মিটার।
এখানে নদীর ওপর দিয়ে মৃদু স্রোতে ক্যানেলের পানি প্রবাহিত হওয়ার দৃশ্য দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। ক্যানেল ও নদীর পানি একই স্থানে একটির ওপর দিয়ে আরেকটি প্রবাহিত হওয়ার বিষয়টি অনেকের কাছেই বিস্ময়কর।
দর্শনার্থীরা জানান, একুইডাক্টের কথা শুনে প্রথমে বিষয়টি অবিশ্বাস্য মনে হয়েছিল। তাই নিজ চোখে দেখতে এখানে এসেছেন তারা। দূর থেকে স্থাপনাটিকে সাধারণ সেতু মনে হলেও কাছে এসে এর বৈশিষ্ট্য দেখে বিস্মিত হন। সাধারণ সেতুর ওপর দিয়ে মানুষ বা যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু একুইডাক্টের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয় ক্যানেলের পানি, আর এর নিচ দিয়ে বয়ে যায় নদীর স্রোত।
তবে দর্শনার্থীদের অভিযোগ, এত সুন্দর একটি স্থাপনা দেখতে এসে বসার মতো কোনো ব্যবস্থা পাওয়া যায় না। পাশাপাশি শৌচাগার না থাকায় বিশেষ করে নারী ও শিশুদের সমস্যায় পড়তে হয়।
একুইডাক্টটির দক্ষিণ পাশের চা দোকানি বাহাগিলী সন্নাসীপাড়ার ছফিয়া বেগম এবং উত্তর পাশের চাঁদখানা বৈরাগীপাড়ার গঙ্গা রায় জানান, শুক্র ও শনিবার ছাড়া অন্য দিন দর্শনার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক কম থাকে। আগে একুইডাক্টসংলগ্ন ক্যানেলের দুই পাশে বড় বড় গাছ ছিল। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এসে ছবি তুলতেন এবং ক্যানেলের বাঁধের গাছের ছায়ায় বসে সময় কাটাতেন। পরে এসব গাছ পানি উন্নয়ন বোর্ড বিক্রি করে দেওয়ায় এখন দর্শনার্থীদের বসার বা সময় কাটানোর কোনো পরিবেশ নেই। ফলে অনেকে একুইডাক্ট দেখে দ্রুত ফিরে যান।
কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, ‘একুইডাক্টটি পরিদর্শন করেছি। এর নির্মাণশৈলী ব্যতিক্রমী। পানি প্রবাহের দৃশ্যও অপূর্ব। এলাকাটি পর্যটন উপযোগী করতে দর্শনার্থীদের জন্য শৌচাগার ও বিশ্রামের ব্যবস্থা করতে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে লিখিতভাবে বলা হয়েছে।
সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আখিনুজ্জামান বলেন, ‘বাঁধ সংস্কারের পর আবারও একুইডাক্টসংলগ্ন ক্যানেলের বাঁধে গাছের চারা লাগানো হচ্ছে। এটি বাংলাদেশের একমাত্র একুইডাক্ট। এ কারণে স্থানটি এমনিতেই পর্যটন এলাকায় পরিণত হয়েছে। দর্শনার্থীদের জন্য আমাদের কোনো পরিকল্পনা নেই। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন আমাদের অধিগ্রহণ করা জমিতে কোনো কিছু নির্মাণ করে দিলে আমাদের আপত্তি থাকবে না।’

























