অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড: আটক হওয়ার আগে যে পোস্ট দিয়েছিলেন আনাস
- আপডেট সময় : ১২:৩৬:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক শাহরিয়ার আনাসের (১৮) ফেসবুক পোস্ট ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
আটক হওয়ার আগে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে অপ্রতিমকে নিয়ে একটি সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত খবরের ফটোকার্ড শেয়ার করেন আনাস। পোস্টের ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। বাচ্চাদের কাছে দামি জিনিস, তার জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ।’
পোস্টে অপ্রতিমের মা-বাবার প্রতি সমবেদনা জানিয়ে আনাস লেখেন, আল্লাহ যেন তার মা-বাবাকে এ শোক সহ্য করার তৌফিক দান করেন।
অপ্রতিমের সঙ্গে নিজের স্মৃতিচারণ করে আনাস আরও লেখেন, ‘মাঝেমধ্যে ছেলেটা আমাকে মেসেজ দিয়ে বলত, ভাই কই আছো, ছবি তুলব কয়েকটা। আসলে এগুলো ভেবে এখন খারাপই লাগতেছে।’
ফেসবুকে ওই পোস্ট দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আনাসকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে পুলিশ। এরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার পোস্টটি ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
পুলিশের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অপ্রতিমের সঙ্গে ঘোরাফেরা করতে দেখা প্রথম সন্দেহভাজন তুহিনকে আটক করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শাহরিয়ার আনাসকে আটক করা হয়।
এদিকে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তুহিন ও আনাস ছাড়াও ফাহিম নামে আরও একজনকে আটক করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত শনিবার রাত পৌনে ১২টা পর্যন্ত প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা ফাহিমের আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেননি।
যেভাবে নিখোঁজ হয় অপ্রতিম
গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় ১৩ বছর বয়সী অপ্রতিম। সে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেলে মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে বের হওয়ার পর আর বাসায় ফেরেনি অপ্রতিম। পরে তার বাবা ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
নিখোঁজের পরদিন শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ গেটের পাশে লালমাই পাহাড়ঘেঁষা সানন্দা গ্রামের একটি ঝোপ থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

























