ঢাকা ০৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo অর্থাভাবে থমকে যাওয়ার পথে শুভর পড়াশোনা, সহায়তায় এবিজি ফাউন্ডেশন Logo দেবীগঞ্জে স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পত্তি দখলের অভিযোগ  Logo বিদেশে পড়াশোনার সুযোগ জানতে বসছে আন্তর্জাতিক শিক্ষা মেলা Logo অটিজমে অবদান থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট, আন্তর্জাতিক দুই স্বীকৃতি ইয়াশা সোবহানের Logo বিশ্ববিদ্যালয় ফুটবলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও সম্প্রীতির মঞ্চ এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ Logo এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬ শুরু, উদ্বোধনে সাবেক তারকা ক্রিকেটাররা Logo ইউরোপে পোশাকের বাজারে মন্দাভাব, উদ্বেগে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা Logo ৩০ লাখ টাকার প্রাইজমানি, আজ শুরু মাঠের লড়াই Logo বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় জাপানের সহযোগিতা আরও বিস্তারের প্রত্যাশা Logo এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপের ক্রিকেট ও ফুটবল ম্যাচের সময়সূচি একনজরে

নওগাঁয় এখনও আম ঝুলছে সোহেল রানার বাগানে, ৬০ লাখ টাকা বিক্রির প্রত্যাশা

অনলাইন ডেক্স:
  • আপডেট সময় : ০৪:১৩:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪৩ বার পড়া হয়েছে

জেলার আম বাগানগুলোতে মওসুমী আম প্রায় শেষ পর্যায়ে। মওসুমী প্রচলিত আম যেমন-আম্রপালি, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, খিরসাপাত, নাকফজলী, বারী-৪, ফজলীসহ বিদশি জাতের বানানা ম্যাংগো, মিয়াজাকিসহ আর কোনো জাতের আম এলাকার গাছে নেই।

সাপাহার উপজেলায় সোহেল রানার বরেন্দ্র এগ্রো নামের এক কৃষি উদ্যোক্তার বাগানের চিত্র ভিন্ন। এখনও তার বাগানজুড়ে সারি সারি আমগাছে ঝুলছে বিলম্বিত জাতের গৌরমতি এবং বারোমাসি জাতের কাটিমন আম।

প্রচলিত আম এই বাগান থেকে এই মওসুমে কোটি টাকারও বেশি মূল্যে বিক্রি করেছেন উদ্যোক্তা সোহেল রানা। তার বাগান থেকে কমপক্ষে আরও ৬০ লাখ টাকার অপ্রচলিত বিলম্ব জাতের আম গৌরমতি ও বারোমাসি কাটিমন জাতের আম বিক্রির প্রত্যাশা করছেন।

সোহেল রানা দেশের বর্তমান আমের রাজধানী বলে খ্যাত সাপাহার উপজেলা সদরের বাসিন্দা। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিসংখ্যান বিষয়ে সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করে চাকরির পেছনে না ছুটে গড়ে তুলেছেন ৭৫ বিঘা আয়তনের এই বাগান।

তার বাগানে এখনও গাছে গাছে ঝুলছে প্রচুর আম। এখনও তার আম বাগানে ১৮০০ গাছে বিলম্বিত জাত গৌরমতি আম এবং ১৭০০ গাছে বারোমাসি কাটিমন জাতের আম ঝুলছে। আগস্ট মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে গৌরমতি আম বাজারজাত করতে শুরু করেছেন। সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে  কাটিমন আম বাজার জাত করতে শুরু করেছেন।

তিনি তার বাগান থেকে গৌরমতি গাছ থেকে ৪শ মণ এবং কাটিমন গাছ থেকে ৪৫০ মণ আম পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন।

প্রতি মণ গড়ে ৭০০০ টাকা হারে কাটিমন আম বিক্রি হবে ৩১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। গৌরমতি আম বিক্রি হচ্ছে প্রতিমণ কমপক্ষে ৮ হাজার টাকায়। সেই হিসাবে গৌরমতি আমের বিক্রয় মূল্য ৩২ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে ৬৩ লাখ টাকার অমওসুমী আম বিক্রি করবেন বলে প্রত্যাশা সোহেল রানার।

সোহেল রানার এই বাগান এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। প্রতিদিন প্রচুর মানুষ এই বাগান দেখতে আসেন। অনুকরণীয় এই আম বাগান দেখে নিজেরাও এমন বাগান সৃজনের প্রত্যাশা করছেন দূর-দূরান্ত থেকে আশা লোকজন।

সোহেল রানার এই বাগান পরিচর্যার কাজে কর্মসংস্থান হয়েছে স্থানীয় কমপক্ষে ১০ জন বেকার যুবকের। প্রতিদিন তারা ৬০০ টাকা করে মজুরি পেয়ে থাকেন যা দিয়ে চলে তাদের সংসার।

নওগাঁ জেলায় আম বাগানগুলোতে বর্তমানে পর্যাপ্ত মওসুমী জাতের আমের পাশাপাশি বিলম্বিত জাতের গৌড়মতি এবং বারোমাসি কাটিমন আমচাষের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বিলম্বিত জাতের হওয়ার ফলে বাগান মালিকরা আমের মূল্যও পাচ্ছেন বেশি। এ ক্ষেত্রে কৃষি বিভাগ আমচাষিদের সার্বিক পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে আসছে বলে জানান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নওগাঁর উপ-পরিচালক মো. মনজুর রহমান।

আমের জেলা হিসেবে পরিচিত নওগাঁর আমচাষিরা ক্রমান্বয়ে লাভজনক ও রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদনের দিকে ঝুঁকে পড়ছেন বলে প্রতিয়মান হচ্ছে। তবে আমচাষিরা আম সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং ব্যাপক আকারে বিদেশে রপ্তানি করার সুযোগ সৃষ্টির জন্য সরকারের দৃষ্টি প্রত্যাশা করেছেন।

Share this news as a Photo Card

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

18 September 2026

নওগাঁয় এখনও আম ঝুলছে সোহেল রানার বাগানে, ৬০ লাখ টাকা বিক্রির প্রত্যাশা

www.uttorersongbad.com

নওগাঁয় এখনও আম ঝুলছে সোহেল রানার বাগানে, ৬০ লাখ টাকা বিক্রির প্রত্যাশা

আপডেট সময় : ০৪:১৩:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জেলার আম বাগানগুলোতে মওসুমী আম প্রায় শেষ পর্যায়ে। মওসুমী প্রচলিত আম যেমন-আম্রপালি, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, খিরসাপাত, নাকফজলী, বারী-৪, ফজলীসহ বিদশি জাতের বানানা ম্যাংগো, মিয়াজাকিসহ আর কোনো জাতের আম এলাকার গাছে নেই।

সাপাহার উপজেলায় সোহেল রানার বরেন্দ্র এগ্রো নামের এক কৃষি উদ্যোক্তার বাগানের চিত্র ভিন্ন। এখনও তার বাগানজুড়ে সারি সারি আমগাছে ঝুলছে বিলম্বিত জাতের গৌরমতি এবং বারোমাসি জাতের কাটিমন আম।

প্রচলিত আম এই বাগান থেকে এই মওসুমে কোটি টাকারও বেশি মূল্যে বিক্রি করেছেন উদ্যোক্তা সোহেল রানা। তার বাগান থেকে কমপক্ষে আরও ৬০ লাখ টাকার অপ্রচলিত বিলম্ব জাতের আম গৌরমতি ও বারোমাসি কাটিমন জাতের আম বিক্রির প্রত্যাশা করছেন।

সোহেল রানা দেশের বর্তমান আমের রাজধানী বলে খ্যাত সাপাহার উপজেলা সদরের বাসিন্দা। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিসংখ্যান বিষয়ে সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করে চাকরির পেছনে না ছুটে গড়ে তুলেছেন ৭৫ বিঘা আয়তনের এই বাগান।

তার বাগানে এখনও গাছে গাছে ঝুলছে প্রচুর আম। এখনও তার আম বাগানে ১৮০০ গাছে বিলম্বিত জাত গৌরমতি আম এবং ১৭০০ গাছে বারোমাসি কাটিমন জাতের আম ঝুলছে। আগস্ট মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে গৌরমতি আম বাজারজাত করতে শুরু করেছেন। সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে  কাটিমন আম বাজার জাত করতে শুরু করেছেন।

তিনি তার বাগান থেকে গৌরমতি গাছ থেকে ৪শ মণ এবং কাটিমন গাছ থেকে ৪৫০ মণ আম পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন।

প্রতি মণ গড়ে ৭০০০ টাকা হারে কাটিমন আম বিক্রি হবে ৩১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। গৌরমতি আম বিক্রি হচ্ছে প্রতিমণ কমপক্ষে ৮ হাজার টাকায়। সেই হিসাবে গৌরমতি আমের বিক্রয় মূল্য ৩২ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে ৬৩ লাখ টাকার অমওসুমী আম বিক্রি করবেন বলে প্রত্যাশা সোহেল রানার।

সোহেল রানার এই বাগান এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। প্রতিদিন প্রচুর মানুষ এই বাগান দেখতে আসেন। অনুকরণীয় এই আম বাগান দেখে নিজেরাও এমন বাগান সৃজনের প্রত্যাশা করছেন দূর-দূরান্ত থেকে আশা লোকজন।

সোহেল রানার এই বাগান পরিচর্যার কাজে কর্মসংস্থান হয়েছে স্থানীয় কমপক্ষে ১০ জন বেকার যুবকের। প্রতিদিন তারা ৬০০ টাকা করে মজুরি পেয়ে থাকেন যা দিয়ে চলে তাদের সংসার।

নওগাঁ জেলায় আম বাগানগুলোতে বর্তমানে পর্যাপ্ত মওসুমী জাতের আমের পাশাপাশি বিলম্বিত জাতের গৌড়মতি এবং বারোমাসি কাটিমন আমচাষের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বিলম্বিত জাতের হওয়ার ফলে বাগান মালিকরা আমের মূল্যও পাচ্ছেন বেশি। এ ক্ষেত্রে কৃষি বিভাগ আমচাষিদের সার্বিক পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে আসছে বলে জানান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নওগাঁর উপ-পরিচালক মো. মনজুর রহমান।

আমের জেলা হিসেবে পরিচিত নওগাঁর আমচাষিরা ক্রমান্বয়ে লাভজনক ও রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদনের দিকে ঝুঁকে পড়ছেন বলে প্রতিয়মান হচ্ছে। তবে আমচাষিরা আম সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং ব্যাপক আকারে বিদেশে রপ্তানি করার সুযোগ সৃষ্টির জন্য সরকারের দৃষ্টি প্রত্যাশা করেছেন।

Share this news as a Photo Card