ঢাকা ০২:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo অর্থাভাবে থমকে যাওয়ার পথে শুভর পড়াশোনা, সহায়তায় এবিজি ফাউন্ডেশন Logo দেবীগঞ্জে স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পত্তি দখলের অভিযোগ  Logo বিদেশে পড়াশোনার সুযোগ জানতে বসছে আন্তর্জাতিক শিক্ষা মেলা Logo অটিজমে অবদান থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট, আন্তর্জাতিক দুই স্বীকৃতি ইয়াশা সোবহানের Logo বিশ্ববিদ্যালয় ফুটবলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও সম্প্রীতির মঞ্চ এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ Logo এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬ শুরু, উদ্বোধনে সাবেক তারকা ক্রিকেটাররা Logo ইউরোপে পোশাকের বাজারে মন্দাভাব, উদ্বেগে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা Logo ৩০ লাখ টাকার প্রাইজমানি, আজ শুরু মাঠের লড়াই Logo বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় জাপানের সহযোগিতা আরও বিস্তারের প্রত্যাশা Logo এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপের ক্রিকেট ও ফুটবল ম্যাচের সময়সূচি একনজরে

জিন্নাহ কি আসলে বিতর্কিত, কী বলে ইতিহাস?

মুফতি মুহাম্মদ ইখতিয়ার হুসাইন
  • আপডেট সময় : ০১:২২:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৯১ বার পড়া হয়েছে

জিন্নাহ অনেক বিতর্কিত কাজ করেছে, ধর্মীয়ভাবেও বিতর্কিত। সাব্বির আহমদ ওসমানী সহ সমকালীন শীর্ষ আলেমদের সাথেও বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল কিন্তু জিন্নাহ না হলে কি ৪৮শে দ্বিজাতিতত্ত্বে ভারত ভাগ হতো, ভারত ভাগ না হলে কি ৭১এ হতো স্বাধীন বাংলাদেশ?

বাংলাদেশ নামও হয়তো উচ্চারিত হতো না, থেকে যেতো ভারতের একটি অঙ্গরাজ্য পূর্ববঙ্গ হিসেবে। এদেশের নিয়তিও কাশ্মীর, হায়দরাবাদ, গুজরাট, জুম্মু, উত্তরপ্রদেশ, নাগাল্যান্ড, মণিপুর, আসাম কিংবা ত্রিপুরার মতোই স্বাধীনতার স্বপ্নে রক্তাক্ত উপাখ্যান হতো।

গরু খাওয়া তো দূরের কথা, মুসলিম পরিচয়ে বেঁচে থাকা, চাকরি পাওয়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া, পর্দাহিজাব পরা, প্রকাশ্যে নামাজ বন্দেগি করা, কোরবানির ঈদ করা, ঈদ সহ ধর্মীয় দিবসে কর্মব্যস্ত মানুষের ঘরে ফেরা, হাজার বছরের মুসলিম স্থাপত্য টিকিয়ে রাখা কিংবা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রক্ষা করা বা মাইকে আজান দেওয়াও নিষিদ্ধ হয়ে যেতো।

কলকাতায় মুসলিম বস্তিতে পানি সরবরাহ বন্ধ গত নব্বই দিন ধরে, ঘোষণা দিয়ে বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে দুইশত বায়ান্নটি মাদরাসা। ইনশাআল্লাহ বলায় পুলিশ অফিসার বুশরা বানুকে করে দেয়া হয়ে বদলি।

ভারতীয় মুসলিমদের নির্যাতিত হতে দেখে ৪৮শের দ্বিজাতিতত্ত্বে মুসলিমদের জন্য আলাদা রাষ্ট্রের দাবী তোলা জিন্নাহকে নতুন করে স্মরণ হচ্ছে।

অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে বঙ্গবন্ধু লিখেছেন “১১ই সেপ্টেম্বর ১৯৪৮ সালে জিন্নাহ সাহেব মারা যান, আমরা জেলের ভেতর খুবই দুঃখিত হলাম। আমাদের যত মতবিরোধই থাকুক না কেন, আমরা জেলের ভেতর তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করলাম”
-১১০ নাম্বার পৃষ্ঠা, অসমাপ্ত আত্মজীবনী

আমি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান। বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী এখনো জীবিত আছেন, একটা অনুষ্ঠানে শুধু বলেছিলাম হালিমুজ্জামান আব্দুল্লাহ আল হামিদী। কাদের সিদ্দিকী দাঁড়িয়ে গিয়ে কেঁদে ফেলে বলেছিলেন তুলা ভাই, কই আছে তুলা ভাই, কেমন আছে, মুক্তিযুদ্ধে আমাদের একত্রে কত স্মৃতি…

জন্মসূত্রেই পাকিস্তানের নাম শুনলে বিদ্বেষ অনুভব করি কিন্তু এটাও সত্য পাকিস্তানের পারমাণবিক শক্তি না থাকলে হয়তো বাংলাদেশকে গিলে খেতে দ্বিতীয়বার ভাবতো না ভারত!

জিন্নাহ মারা গেছে ৪৮সালে, ভাষা আন্দোলন হয়েছে ৫২সালে আর মহান মুক্তিযুদ্ধ ৭১এ। লিয়াকত আলী, আইয়ুব খান এবং ইয়াহিয়ার সাথে জিন্নাহকে গুলিয়ে ফেলছি না তো!

জিন্নাহ নিষিদ্ধ হলে, বঙ্গভঙ্গ রদের অগ্রসেনা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় বাধাদানকারী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রঠাও নিষিদ্ধ কেন নয়?

:লেখক, কবি, কথাসাহিত্যিক, গবেষক ও উপস্থাপক
নির্বাহী সম্পাদক, জাতীয় গবেষণাপত্র ইৎকর্ষ
ইমাম ও খতীব, বিরুলিয়া সেন্ট্রাল জামে মসজিদ ঢাকা

Share this news as a Photo Card

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

16 September 2026

জিন্নাহ কি আসলে বিতর্কিত, কী বলে ইতিহাস?

www.uttorersongbad.com

জিন্নাহ কি আসলে বিতর্কিত, কী বলে ইতিহাস?

আপডেট সময় : ০১:২২:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জিন্নাহ অনেক বিতর্কিত কাজ করেছে, ধর্মীয়ভাবেও বিতর্কিত। সাব্বির আহমদ ওসমানী সহ সমকালীন শীর্ষ আলেমদের সাথেও বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল কিন্তু জিন্নাহ না হলে কি ৪৮শে দ্বিজাতিতত্ত্বে ভারত ভাগ হতো, ভারত ভাগ না হলে কি ৭১এ হতো স্বাধীন বাংলাদেশ?

বাংলাদেশ নামও হয়তো উচ্চারিত হতো না, থেকে যেতো ভারতের একটি অঙ্গরাজ্য পূর্ববঙ্গ হিসেবে। এদেশের নিয়তিও কাশ্মীর, হায়দরাবাদ, গুজরাট, জুম্মু, উত্তরপ্রদেশ, নাগাল্যান্ড, মণিপুর, আসাম কিংবা ত্রিপুরার মতোই স্বাধীনতার স্বপ্নে রক্তাক্ত উপাখ্যান হতো।

গরু খাওয়া তো দূরের কথা, মুসলিম পরিচয়ে বেঁচে থাকা, চাকরি পাওয়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া, পর্দাহিজাব পরা, প্রকাশ্যে নামাজ বন্দেগি করা, কোরবানির ঈদ করা, ঈদ সহ ধর্মীয় দিবসে কর্মব্যস্ত মানুষের ঘরে ফেরা, হাজার বছরের মুসলিম স্থাপত্য টিকিয়ে রাখা কিংবা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রক্ষা করা বা মাইকে আজান দেওয়াও নিষিদ্ধ হয়ে যেতো।

কলকাতায় মুসলিম বস্তিতে পানি সরবরাহ বন্ধ গত নব্বই দিন ধরে, ঘোষণা দিয়ে বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে দুইশত বায়ান্নটি মাদরাসা। ইনশাআল্লাহ বলায় পুলিশ অফিসার বুশরা বানুকে করে দেয়া হয়ে বদলি।

ভারতীয় মুসলিমদের নির্যাতিত হতে দেখে ৪৮শের দ্বিজাতিতত্ত্বে মুসলিমদের জন্য আলাদা রাষ্ট্রের দাবী তোলা জিন্নাহকে নতুন করে স্মরণ হচ্ছে।

অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে বঙ্গবন্ধু লিখেছেন “১১ই সেপ্টেম্বর ১৯৪৮ সালে জিন্নাহ সাহেব মারা যান, আমরা জেলের ভেতর খুবই দুঃখিত হলাম। আমাদের যত মতবিরোধই থাকুক না কেন, আমরা জেলের ভেতর তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করলাম”
-১১০ নাম্বার পৃষ্ঠা, অসমাপ্ত আত্মজীবনী

আমি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান। বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী এখনো জীবিত আছেন, একটা অনুষ্ঠানে শুধু বলেছিলাম হালিমুজ্জামান আব্দুল্লাহ আল হামিদী। কাদের সিদ্দিকী দাঁড়িয়ে গিয়ে কেঁদে ফেলে বলেছিলেন তুলা ভাই, কই আছে তুলা ভাই, কেমন আছে, মুক্তিযুদ্ধে আমাদের একত্রে কত স্মৃতি…

জন্মসূত্রেই পাকিস্তানের নাম শুনলে বিদ্বেষ অনুভব করি কিন্তু এটাও সত্য পাকিস্তানের পারমাণবিক শক্তি না থাকলে হয়তো বাংলাদেশকে গিলে খেতে দ্বিতীয়বার ভাবতো না ভারত!

জিন্নাহ মারা গেছে ৪৮সালে, ভাষা আন্দোলন হয়েছে ৫২সালে আর মহান মুক্তিযুদ্ধ ৭১এ। লিয়াকত আলী, আইয়ুব খান এবং ইয়াহিয়ার সাথে জিন্নাহকে গুলিয়ে ফেলছি না তো!

জিন্নাহ নিষিদ্ধ হলে, বঙ্গভঙ্গ রদের অগ্রসেনা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় বাধাদানকারী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রঠাও নিষিদ্ধ কেন নয়?

:লেখক, কবি, কথাসাহিত্যিক, গবেষক ও উপস্থাপক
নির্বাহী সম্পাদক, জাতীয় গবেষণাপত্র ইৎকর্ষ
ইমাম ও খতীব, বিরুলিয়া সেন্ট্রাল জামে মসজিদ ঢাকা

Share this news as a Photo Card