ঢাকা ০২:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo অর্থাভাবে থমকে যাওয়ার পথে শুভর পড়াশোনা, সহায়তায় এবিজি ফাউন্ডেশন Logo দেবীগঞ্জে স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পত্তি দখলের অভিযোগ  Logo বিদেশে পড়াশোনার সুযোগ জানতে বসছে আন্তর্জাতিক শিক্ষা মেলা Logo অটিজমে অবদান থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট, আন্তর্জাতিক দুই স্বীকৃতি ইয়াশা সোবহানের Logo বিশ্ববিদ্যালয় ফুটবলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও সম্প্রীতির মঞ্চ এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ Logo এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬ শুরু, উদ্বোধনে সাবেক তারকা ক্রিকেটাররা Logo ইউরোপে পোশাকের বাজারে মন্দাভাব, উদ্বেগে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা Logo ৩০ লাখ টাকার প্রাইজমানি, আজ শুরু মাঠের লড়াই Logo বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় জাপানের সহযোগিতা আরও বিস্তারের প্রত্যাশা Logo এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপের ক্রিকেট ও ফুটবল ম্যাচের সময়সূচি একনজরে

অশুভ লক্ষণ কি মানুষের ভাগ্য বদলে দিতে পারে?

ধর্ম ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ০১:০২:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫৪ বার পড়া হয়েছে

আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোনো রোগ নিজে থেকে সংক্রমিত হওয়ার ক্ষমতা রাখে না এবং অশুভ লক্ষণ বা ‘তিয়ারা’ বলে কিছু নেই। তবে তিনি ‘ফাল’ বা শুভ লক্ষণ পছন্দ করতেন। সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, ‘ফাল’ কী? তিনি বলেন, সুন্দর ও আনন্দদায়ক কথা। (সহিহ বুখারি: ৫৭৫৭; সহিহ মুসলিম: ২২২৪)

অন্য এক বর্ণনায় আবু হুরায়রা (রা.) থেকে জানা যায়, রাসূলুল্লাহ (সা.) কুলক্ষণ, পেঁচার ডাককে অশুভ মনে করা এবং সফর মাসকে অমঙ্গলের মাস মনে করার ধারণা নাকচ করেছেন। একই সঙ্গে রোগাক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ থেকে সতর্ক থাকার নির্দেশনাও দিয়েছেন।

রাসূলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, কোনো কুলক্ষণ বা ‘তিয়ারা’র কারণে কেউ যদি তার কাজ থেকে ফিরে আসে, তবে সে শিরক করেছে। সাহাবিরা এর কাফফারা জানতে চাইলে তিনি একটি দোয়া শিক্ষা দেন—

‘হে আল্লাহ, তোমার কল্যাণ ছাড়া অন্য কোনো কল্যাণ নেই, তোমার অশুভ ছাড়া অন্য কোনো অশুভ নেই এবং তুমি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই।’

ইসলামের এই শিক্ষা মানুষকে কুসংস্কার থেকে মুক্ত হয়ে আল্লাহর ওপর নির্ভর করতে শেখায়। কোনো পাখি, দিন, মাস কিংবা ঘটনার নিজস্ব কোনো অশুভ ক্ষমতা নেই। তাই কোনো ঘটনা বা লক্ষণ দেখে ভয় না পেয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা করা এবং সঠিক কারণ ও বাস্তবতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়াই মুমিনের জন্য কল্যাণকর।

একজন মুমিনের হৃদয়ে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস ও তাওয়াক্কুল থাকা উচিত। ভিত্তিহীন কুসংস্কার, ভয় কিংবা অশুভ ধারণা যেন তার ইবাদত, দৈনন্দিন জীবন বা ভালো কাজের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়—এটাই ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।

সূত্র: সহিহ বুখারি, হাদিস ৫৭৫৭; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২২২৪।

Share this news as a Photo Card

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

17 September 2026

অশুভ লক্ষণ কি মানুষের ভাগ্য বদলে দিতে পারে?

www.uttorersongbad.com

অশুভ লক্ষণ কি মানুষের ভাগ্য বদলে দিতে পারে?

আপডেট সময় : ০১:০২:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোনো রোগ নিজে থেকে সংক্রমিত হওয়ার ক্ষমতা রাখে না এবং অশুভ লক্ষণ বা ‘তিয়ারা’ বলে কিছু নেই। তবে তিনি ‘ফাল’ বা শুভ লক্ষণ পছন্দ করতেন। সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, ‘ফাল’ কী? তিনি বলেন, সুন্দর ও আনন্দদায়ক কথা। (সহিহ বুখারি: ৫৭৫৭; সহিহ মুসলিম: ২২২৪)

অন্য এক বর্ণনায় আবু হুরায়রা (রা.) থেকে জানা যায়, রাসূলুল্লাহ (সা.) কুলক্ষণ, পেঁচার ডাককে অশুভ মনে করা এবং সফর মাসকে অমঙ্গলের মাস মনে করার ধারণা নাকচ করেছেন। একই সঙ্গে রোগাক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ থেকে সতর্ক থাকার নির্দেশনাও দিয়েছেন।

রাসূলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, কোনো কুলক্ষণ বা ‘তিয়ারা’র কারণে কেউ যদি তার কাজ থেকে ফিরে আসে, তবে সে শিরক করেছে। সাহাবিরা এর কাফফারা জানতে চাইলে তিনি একটি দোয়া শিক্ষা দেন—

‘হে আল্লাহ, তোমার কল্যাণ ছাড়া অন্য কোনো কল্যাণ নেই, তোমার অশুভ ছাড়া অন্য কোনো অশুভ নেই এবং তুমি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই।’

ইসলামের এই শিক্ষা মানুষকে কুসংস্কার থেকে মুক্ত হয়ে আল্লাহর ওপর নির্ভর করতে শেখায়। কোনো পাখি, দিন, মাস কিংবা ঘটনার নিজস্ব কোনো অশুভ ক্ষমতা নেই। তাই কোনো ঘটনা বা লক্ষণ দেখে ভয় না পেয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা করা এবং সঠিক কারণ ও বাস্তবতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়াই মুমিনের জন্য কল্যাণকর।

একজন মুমিনের হৃদয়ে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস ও তাওয়াক্কুল থাকা উচিত। ভিত্তিহীন কুসংস্কার, ভয় কিংবা অশুভ ধারণা যেন তার ইবাদত, দৈনন্দিন জীবন বা ভালো কাজের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়—এটাই ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।

সূত্র: সহিহ বুখারি, হাদিস ৫৭৫৭; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২২২৪।

Share this news as a Photo Card