দুই কিডনি অচল, এখনও জীবিত; অথচ জাতীয় পরিচয়পত্রে ‘মৃত’ মোতালেব
- আপডেট সময় : ০৪:২৩:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ ৩৬ বার পড়া হয়েছে
দুটি কিডনি অচল হয়ে পড়েছে আব্দুল মোতালেবের। গুরুতর অসুস্থতার কারণে কাজ করতে পারেন না, অর্থাভাবে হচ্ছে না প্রয়োজনীয় চিকিৎসা। এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে তাঁর বয়স্ক ভাতা। কারণ, সরকারি নথিতে তাঁকে মৃত দেখানো হয়েছে। অথচ বাস্তবে জীবিত এই মানুষটি পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর এলাকার লোহাগাছ গ্রামে।

সরকারি নথিতে মৃত দেখানোর কারণে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি বলে অভিযোগ করেছেন আব্দুল মোতালেব। বন্ধ হয়ে গেছে বয়স্ক ভাতাও। এমনকি সরকারি সহায়তা পেতে আবেদন করতেও পড়তে হচ্ছে নানা জটিলতায়। কয়েক মাস ধরে উপজেলা নির্বাচন অফিসে ঘুরেও সরকারি নথিতে নিজেকে জীবিত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করাতে পারেননি তিনি।
আব্দুল মোতালেব, আব্দুল জলিলের ছেলে। এক ছেলে ও পাঁচ মেয়ের বাবা তিনি। পেশায় কৃষক। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ মোতালেবের বর্তমানে দুটি কিডনিই অচল। রক্তস্বল্পতার কারণে প্রতি মাসে তাঁকে শরীরে রক্ত নিতে হয়। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া তাঁর পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
একদিকে অসুস্থ শরীর নিয়ে বেঁচে থাকার লড়াই, অন্যদিকে সরকারি নথিতে নিজেকে জীবিত প্রমাণের চেষ্টা—দুই সংকটে দিশেহারা মোতালেব ও তাঁর পরিবার।
আব্দুল মোতালেব বলেন, “শরীরের কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে, এখনো মরি নাই। এর মধ্যে সরকারি তালিকায় আমি মৃত। বয়স্ক ভাতার কিছু টাকা পেতাম, যেটা দিয়ে ওষুধ কিনে খেতাম, সেটাও বন্ধ হয়ে গেছে। কোথাও সহায়তা চাইতে গেলে জাতীয় পরিচয়পত্র লাগে। কিন্তু সরকারি তালিকায় মৃত হওয়ায় সব সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। বেঁচে থেকেও কাগজপত্রে মৃত—এটাই আমার সবচেয়ে বেশি কষ্টের।”
মোতালেবের ছেলে মোশারফ হোসেন বলেন, বাবাকে সরকারি নথিতে জীবিত দেখানোর জন্য বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরেছেন তাঁরা। কিন্তু এখনো কোনো সমাধান পাননি। অসুস্থ বাবার চিকিৎসার জন্য সরকারি সহায়তা চাওয়ার সুযোগও তৈরি করতে পারছেন না। দ্রুত তাঁর বাবার নাম-পরিচয়সংক্রান্ত সরকারি নথি সংশোধন করে তাঁকে জীবিত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ ভুঁইয়া বলেন, “এত দিন আমাকে কেউ বিষয়টি জানায়নি। এখন খোঁজ পেয়েছি। এটি সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছি।”
জীবিত একজন মানুষ সরকারি নথিতে মৃত হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় চিকিৎসা, বয়স্ক ভাতা ও সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হলে অসুস্থ মোতালেবের চিকিৎসা ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের পথ কিছুটা সহজ হবে বলে আশা করছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা।





















