লালন সাঁইয়ের অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর হেলালের
- আপডেট সময় : ০৪:০১:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ২৩ বার পড়া হয়েছে
লালন সাঁইকে কেবল সুরকার বা সংগীতশিল্পী হিসেবে দেখলে তাঁর সামগ্রিক মূল্যায়ন হয় না। তিনি ছিলেন মানবতাবাদী চিন্তাধারার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁর সৃষ্ট অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধ ধারণ করতে পারলে বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমির অনিরুদ্ধ মুক্তমঞ্চে জেলা প্রশাসন আয়োজিত লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবসের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলালউদ্দীন এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম, বর্ণ কিংবা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে মানুষকে বিভক্ত না করে সবার আগে মানবতাকে স্থান দিতে হবে। মানুষের মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখা এবং বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করাই বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণের মূল ভিত্তি। লালন সাঁইয়ের চিন্তা ও সৃষ্টিতে এসব মূল্যবোধের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, লালনের সাম্য ও ঐক্যের দর্শন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনেও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের রূপকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর ধারণা সর্বস্তরের মানুষকে নিজস্ব সত্তা ও স্বকীয়তা বজায় রেখে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার পথ দেখিয়েছে।
দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের তিন পার্বত্য জেলাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতিতে রয়েছে বর্ণিল বৈচিত্র্য। এই বৈচিত্র্যই আমাদের ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করেছে। সাতটি ভিন্ন রঙের সমন্বয়ে যেমন দৃষ্টিনন্দন রংধনু সৃষ্টি হয়, তেমনি সব ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করলে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়সল আহমেদ, চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার চাইলাউ মারমা এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
স্মরণসভায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, লালনপ্রেমী, সংস্কৃতিপ্রেমী, স্থানীয় জনসাধারণ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।





















