শরতের আকাশে কাঞ্চনজঙ্ঘার উঁকি ছুটছেন পর্যটকরা
- আপডেট সময় : ১২:২৩:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ১৭ বার পড়া হয়েছে
শরতের নীল মেঘমুক্ত আকাশে উঁকি দিচ্ছে হিমালয়ের বরফে ঢাকা পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা। ভোরের প্রথম আলোয় কখনো লালচে, কখনো পোড়ামাটির রঙ, আবার কখনো শুভ্র তুষারের আবরণে মোহনীয় হয়ে ওঠে পাহাড়ের চূড়া। দিনভর চলে রঙ বদলের খেলা। নয়নাভিরাম এই পর্বত চূড়ার সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশের উত্তরের প্রবেশদ্বার পঞ্চগড়ে ছুটছেন পর্যটকরা।
কয়েকদিন আগেই আবহাওয়া অফিস বার্তা দেয় মৌসুমী বায়ু বিদায় নেয়ায় ১৩,১৪ ও ১৫ অক্টোবর দৃশ্যমান হতে পারে কাঞ্চনজঙ্ঘা। এই ছড়িয়ে পড়ায় পঞ্চগড়ে প্রকৃতিপ্রেমিদের ঢল নামে। কেউ বাসে চেপে, কেউ ট্রেনে আবার কেউ বাইক রাইড করে পৌছায় গন্তব্যে। মধ্যরাত থেকেই অপেক্ষা কখন হবে ভোর আর দেখা দিবে রূপের রানী কাঞ্চনজঙ্ঘা। মঙ্গলবার ভোরে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা দিলেও কুয়াশার কারণে কিছুটা ঝাপসা হয়ে আসে। তবে খুব বেশিক্ষণ নিরাশ হতে হয় নি দর্শনার্থীদের। সূর্যের আলো গিয়ে পড়ে পর্বত চূড়ার উপর। ঝলমলিয়ে উঠে কাঞ্চনজঙ্ঘা। দূর পাহাড়ের সাথে মিতালি হয় মহানন্দা পাড়ের মানুষের। চোখে মুখে তৃপ্তি আর মন ভরে উপভোগ করেন প্রকৃতিপ্রেমিরা। কারও হাতে মুঠোফোন, কারও কাঁধে দামি ক্যামেরা। ঝটপট ক্যামেরাবন্দি করা হয় অপরুপ এ দৃশ্য।
স্থানীয়রা জানান৷ বছরের অক্টেবর থেকে নভেম্বরে মেঘমুক্ত আকাশে দৃশ্যমান হয় কাঞ্চনজঙ্ঘা। এবারও সময় মতোই দেখা মিলেছে হিমালয়ের এই পর্বত চূড়া। জেলার বিভিন্ন ফাঁকা জায়গা থেকে উত্তরে তাকালেই দেখা মিলে এ চূড়ার। তবে পঞ্চগড় শহরের করতোয়া সেতু, মাগুরমারী সীমান্ত ও তেঁতুলিয়া জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর মহানন্দার পাড় থেকে সবচেয়ে ভালো দেখা যায় কাঞ্চনজঙ্ঘা। পাশাপাশি দার্জিলিঙয়ের পাহাড়ি এলাকাও দেখা যায় এখান থেকে। রাতে দার্জিলিংয়ের আলো ঝলমলে শহরের চিত্রও দেখা মিলে। তাই হালকা শীতে পঞ্চগড়ে বাড়ে পর্যটকদের আনাগোনা। এরই মধ্যে ভিড় বেড়েছে আবাসিক হোটেলগুলোতে।
ঢাকা থেকে আসা ড. এইচ এম মাহবুবুর রহমান বলেন, এটা সত্যিই দারুন অভিজ্ঞতা। নেপালে গিয়ে আপনি এতো চমৎকার দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন কিনা সন্দেহ রয়েছে। ভোরের আলো পড়ার সাথে সাথে কাঞ্চনজঙ্ঘা দৃশ্যমান হওয়ার মূহুর্তটা দারুন ছিলো।
নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা ফটোগ্রাফার জামিল হক নিপু বলেন, আমরা দীর্ঘদিন অপেক্ষায় ছিলাম দেশের মাটি থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার একটি ছবি তোলার জন্য। ভোরে কুয়াশা থেকে ভয় পেলেও প্রকৃতি আমাকে নিরাশ করেনি। একজন ফটোগ্রাফার হিসেবে আমি এই মূহুর্তটি ধরে রাখার চেষ্টা করেছি।
রাজশাহী থেকে পরিবার নিয়ে এসেছেন মোকলেছুর রহমান তিনি বলেন, অনেকে একাধিকবার এসেই কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে পান নি। আমরা লাকি যে প্রথমবারেই কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে পেরেছি। মহানন্দার পাড়, ওপারে ভারত, তার উপরে কাঞ্চনজঙ্ঘা। প্রকৃতির অসাধারণ একটা জায়গা এটি।
স্থানীয় বাসিন্দা আবু তাহেরের বলেন, এই সৌন্দর্য ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে পঞ্চগড়কে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যটন এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা হোক।





















