জলবায়ু পরিবর্তন বৈশ্বিক সমস্যা, জনসচেতনতা বাড়াতে হবে: পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৮:০৯:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ৪৯ বার পড়া হয়েছে
জলবায়ু পরিবর্তন কোনো একক দেশের সমস্যা নয়, এটি একটি বৈশ্বিক সংকট। এর বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, এমপি।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টায় রাজধানীর হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ের বলরুমে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় আয়োজিত Bangladesh Climate Development Partnership (BCDP) Knowledge Conference 2026-এর ‘Water Resources: Climate Risks and Adaptive Management’ শীর্ষক অধিবেশনে সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
৭ ও ৮ অক্টোবর দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনে জলবায়ু সহনশীলতা, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু অভিযোজন ও অর্থায়নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তন শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়, এটি সমগ্র বিশ্বের সমস্যা। তাই এ ধরনের সেমিনার ও আলোচনা শুধু সম্মেলনকক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। আলোচনার বিষয়গুলো দেশের সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।”
তিনি বলেন, দূষণমুক্ত পরিবেশ, পরিবেশ দূষণ, পানি সম্পদ ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে দেশের সাধারণ মানুষ কতটা সচেতন, তা নিয়ে ভাবতে হবে। প্রতিদিন সকালে আমরা কতজন নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি পান করে দিন শুরু করছি—এ প্রশ্নটিও গুরুত্বপূর্ণ।
পানি, পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি উল্লেখ করে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন এবং এ বিষয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়নে গুরুত্বারোপ করেছেন।
জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় প্রকৃতিনির্ভর সমাধান (Nature-based Solutions)-কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রচলিত জিওব্যাগ ও ব্লকের পাশাপাশি ব্যাপকভাবে বিন্না ঘাস ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় পরিবেশ ও প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এসব ব্যবস্থা নদীভাঙনসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক ঝুঁকি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নদী ও খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মাধ্যমে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও নদী খনন ও পুনঃখননের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এর ফলে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত হবে, জলাবদ্ধতা কমবে এবং কৃষি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় দেশের সক্ষমতা বাড়বে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় শুধু সরকার নয়, উন্নয়ন সহযোগী, বিশেষজ্ঞ, গবেষক, বেসরকারি খাত এবং সর্বস্তরের জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। শুধু পরিকল্পনা গ্রহণ করলেই হবে না, সেই পরিকল্পনা মাঠপর্যায়ে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হবে—সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ। একটি নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব, জলবায়ু সহনশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই আমাদের প্রত্যাশা।”
সম্মেলনের পানি সম্পদবিষয়ক অধিবেশনে জলবায়ু ঝুঁকি, সমন্বিত নদী অববাহিকা ব্যবস্থাপনা, লবণাক্ততা মোকাবিলা, টেকসই ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবস্থাপনা এবং জলবায়ু সহনশীল পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়।
অধিবেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বুয়েটের ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার অ্যান্ড ফ্লাড ম্যানেজমেন্টের (আইডব্লিউএফএম) অধ্যাপক ড. এ কে এম সাইফুল ইসলাম। প্যানেল আলোচনায় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, পানি উন্নয়ন বোর্ড, বিআইডব্লিউটিএ, সিইজিআইএস, বিশ্বব্যাংক ও নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।




















