ঢাকা ০২:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo অর্থাভাবে থমকে যাওয়ার পথে শুভর পড়াশোনা, সহায়তায় এবিজি ফাউন্ডেশন Logo দেবীগঞ্জে স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পত্তি দখলের অভিযোগ  Logo বিদেশে পড়াশোনার সুযোগ জানতে বসছে আন্তর্জাতিক শিক্ষা মেলা Logo অটিজমে অবদান থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট, আন্তর্জাতিক দুই স্বীকৃতি ইয়াশা সোবহানের Logo বিশ্ববিদ্যালয় ফুটবলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও সম্প্রীতির মঞ্চ এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ Logo এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬ শুরু, উদ্বোধনে সাবেক তারকা ক্রিকেটাররা Logo ইউরোপে পোশাকের বাজারে মন্দাভাব, উদ্বেগে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা Logo ৩০ লাখ টাকার প্রাইজমানি, আজ শুরু মাঠের লড়াই Logo বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় জাপানের সহযোগিতা আরও বিস্তারের প্রত্যাশা Logo এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপের ক্রিকেট ও ফুটবল ম্যাচের সময়সূচি একনজরে

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থ চেষ্টা : প্রায় এক সপ্তাহ পর কথা বলছেন ক্রিস্টা পাইক

অনলাইন ডেক্স:
  • আপডেট সময় : ০৮:০৬:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে

ক্রিস্টা পাইক। সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রে গত সপ্তাহে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা থেকে বেঁচে যাওয়ার পর আসামি ক্রিস্টা পাইক ‘জীবিত আছেন এবং কথা বলছেন’ বলে তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন।

এক বিবৃতিতে তার আইনজীবীরা জানান, ৫০ বছর বয়সী পাইক হাসপাতালে হাতকড়া পরা অবস্থায় জরুরি চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন।

১৯৯৫ সালে কলিন স্লেমারকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাইক, গত বুধবার টেনেসিতে দু’টি ব্যর্থ প্রাণঘাতী ইনজেকশন থেকে বেঁচে যান।

তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসাকর্মীরা তার শরীর থেকে ইনজেকশনের মাধ্যমে দেয়া রাসায়নিকটি অপসারণ না করা পর্যন্ত তিনি বেশ কয়েকদিন অচেতন অবস্থায় ছিলেন।

তার সুস্থ হয়ে ওঠার ঘটনাটি নজিরবিহীন হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞ এবং তার আইনি দলের সদস্যরা। ধারণা করা হচ্ছে যে, প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেয়ার পরও তিনিই একমাত্র ব্যক্তি, যিনি বেঁচে গেছেন।

ক্রিস্টা পাইকের শারীরিক অবস্থার উন্নতিকে ‘চিকিৎসাগতভাবে অভূতপূর্ব’ বলে অভিহিত করেছেন তার আইনজীবীরা। যদিও তার পুরো সুস্থ হয়ে ওঠার বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত, ‘তার সুস্থ হয়ে উঠতে দীর্ঘ সময় লাগবে বলেই মনে হচ্ছে’।

ফোর্ডহ্যাম ল স্কুলের অপরাধবিজ্ঞানী ও অধ্যাপক ডেবোরা ডেনো বলেছেন, পাইক যে জ্ঞান ফিরে পেয়েছেন এবং কথা বলছেন, তাতেই তিনি ‘একেবারে হতবাক’ হয়েছেন।

ডেনো জানিয়েছেন, আরো সাতটি ঘটনা ছিল যেখানে বন্দীরা নির্ধারিত মৃত্যুদণ্ড থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন, কিন্তু সেসব ক্ষেত্রে জল্লাদরা বন্দীদের শিরায় কোনো কিছু প্রবেশ করাতে পারেনি।

তিনি বলেন, ‘পাইকই একমাত্র ব্যক্তি যাকে কোনো ধরনের বিষাক্ত পদার্থ ইনজেকশনের মাধ্যমে দেয়া হয়েছে। বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাদের যা যা করার কথা ছিল, তারা তার সবই করেছিল, কিন্তু তা কাজ করেনি। এমনটা আগে কখনো ঘটেনি।’

কর্তৃপক্ষ এখনো জানায়নি যে, তারা পাইককে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার জন্য আবার চেষ্টা করবে কিনা। তাকে পেন্টোবার্বিটাল নামক রাসায়নিক ইনজেকশন দেয়ার পর কী ভুল হয়েছিল, সে বিষয়েও তারা কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।

টেনেসি অঙ্গরাজ্যের গভর্নর বিল লি বছরের বাকি সময়ের জন্য সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা স্থগিত করেছেন এবং রাজ্যের কারা প্রধান জানিয়েছেন যে তিনি পদত্যাগ করার পরিকল্পনা করছেন।

নিজের ১৮ বছর বয়সে, পাইক এবং তার সেই সময়কার প্রেমিক ট্যাডারিল শিপ, স্লেমার নামে ১৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে মারধর ও নির্যাতনের পর হত্যা করে। সমস্যাগ্রস্ত কিশোর-কিশোরীদের জন্য একটি কর্ম প্রশিক্ষণ শিবিরে তাদের পরিচয় হয়েছিল।

পাইকের আইনজীবীদের বুধবার (৭ অক্টোবর) ন্যাশভিলের আদালতে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে। তারা আদালতের বাইরে একটি সংবাদ সম্মেলন করারও পরিকল্পনা করছেন।

পাইকের চিকিৎসক দলের উপদেষ্টা হিসেবে থাকা অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট ডক্টর জোয়েল জিভোট মঙ্গলবার বলেছেন যে, প্রাণঘাতী ইনজেকশনের পর সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা কম।

তিনি আরো বলেন, ‘যাদের প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেয়া হয়, তাদের বেশিভাগই মারা যায়। সত্যি বলতে, ক্রিস্টা ছাড়া প্রায় সবাই-ই মারা গেছে। তাই তার বেঁচে যাওয়াটা ছিল অস্বাভাবিক।’

জিভোট বলেন, তবে এখনো অনেক অনিশ্চয়তা ও অজানা বিষয় রয়ে গেছে। যার মধ্যে রয়েছে তার শরীরে কী পরিমাণ পেন্টোবার্বিটাল প্রবেশ করেছিল, ইনজেকশন দেয়ার পর তার রক্তে এর মাত্রা কেমন ছিল এবং তার সেরে ওঠার প্রক্রিয়াটি কেমন হবে।

তিনি মন্তব্য করেন, ‘এই মুহূর্তে আমি কোনোভাবেই বলব না যে তার সব বড় ঝুঁকি কেটে গেছে।’

জিভোট এর আগে বলেছিলেন যে, গত সপ্তাহে তাকে যে পেন্টোবার্বিটালের দু’টি ডোজ দেয়া হয়েছিল, তা যদি স্বাভাবিকভাবে তার রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করত, তবে ‘তিনি নিশ্চিতভাবে মারা যেতেন’।

এছাড়াও তিনি বলেন, এই ঘটনার একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হলো, পেন্টোবার্বিটাল পাইকের রক্তপ্রবাহে প্রবেশ না করে সম্ভবত তার ত্বকের নিচের টিস্যুতে ছড়িয়ে পড়েছিল।

জিভোট গত সপ্তাহে বলেছিলেন যে, তাকে বাঁচানোর চেষ্টা কিছুটা দেরিতে হওয়ায় তার মস্তিষ্কে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা ‘খুবই বেশি’।

তিনি এটাও বিশ্বাস করতেন যে, পাইকের অবস্থা পুরোপুরি বুঝতে এবং আবারো পরীক্ষা করতে প্রায় এক সপ্তাহ সময় লাগবে। তার মৃত্যুদণ্ডের ব্যর্থ চেষ্টার পর এখন ছয় দিন কেটে গেছে।

পাইকের আইনজীবীরা আগে সতর্ক করেছিলেন যে, তার শারীরিক অবস্থা এবং থ্রম্বোসাইটোসিস (রক্ত জমাট বাঁধার একটি অবস্থা) ও সরু শিরার মতো শারীরিক গঠনের কারণে প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেয়ার সময় তিনি ‘অপ্রয়োজনীয়’ ব্যথা ও যন্ত্রণার শিকার হতে পারেন।

মঙ্গলবার তারা জানিয়েছে যে, তার দুই বাহু ‘গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত’ হয়েছে।

ডেথ পেনাল্টি ইনফরমেশন সেন্টার, যেখানে এই ধরনের মামলার তথ্য সংগ্রহ করা হয়, তাদের মতে, ২০২২ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে কার্যকর হওয়া এক-তৃতীয়াংশের বেশি মৃত্যুদণ্ড ত্রুটিপূর্ণ বা অত্যন্ত সমস্যাযুক্ত ছিল।

প্রাণঘাতী ইনজেকশনের ক্ষেত্রে এই ধরনের ঘটনা সাধারণত শিরায় নির্ভরযোগ্যভাবে আইভি অ্যাক্সেস পেতে অসুবিধার কারণে ঘটে থাকে, যদিও এর অন্তর্নিহিত কারণ ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হয়।

কেন্দ্রটির নথিভুক্ত করা ঘটনাগুলোতে, যেসব ক্ষেত্রে ব্যর্থতার ঘটনা ঘটেছে তার প্রায় সবগুলোই প্রাণঘাতী ওষুধ প্রয়োগের আগে।

ট্র্যাক করা সর্বশেষ ব্যর্থ প্রাণঘাতী ইনজেকশনের ঘটনাও এই বছরের শুরুতে ঘটেছিল, সেটিও টেনেসিতে।

১৯৯৪ সালে তিনজনকে অপহরণ ও হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত টনি ক্যারুথার্সের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া মে মাসে স্থগিত করা হয়েছিল, কারণ প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেয়ার জন্য একটি শিরা খুঁজে পেতেই ব্যর্থ হন কর্মীরা।

পরে গভর্নর এক বছরের জন্য তার সাজা কার্যকর স্থগিত করেন।

সূত্র : বিবিসি

Share this news as a Photo Card

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

07 October 2026

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থ চেষ্টা : প্রায় এক সপ্তাহ পর কথা বলছেন ক্রিস্টা পাইক

www.uttorersongbad.com

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থ চেষ্টা : প্রায় এক সপ্তাহ পর কথা বলছেন ক্রিস্টা পাইক

আপডেট সময় : ০৮:০৬:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

ক্রিস্টা পাইক। সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রে গত সপ্তাহে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা থেকে বেঁচে যাওয়ার পর আসামি ক্রিস্টা পাইক ‘জীবিত আছেন এবং কথা বলছেন’ বলে তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন।

এক বিবৃতিতে তার আইনজীবীরা জানান, ৫০ বছর বয়সী পাইক হাসপাতালে হাতকড়া পরা অবস্থায় জরুরি চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন।

১৯৯৫ সালে কলিন স্লেমারকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাইক, গত বুধবার টেনেসিতে দু’টি ব্যর্থ প্রাণঘাতী ইনজেকশন থেকে বেঁচে যান।

তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসাকর্মীরা তার শরীর থেকে ইনজেকশনের মাধ্যমে দেয়া রাসায়নিকটি অপসারণ না করা পর্যন্ত তিনি বেশ কয়েকদিন অচেতন অবস্থায় ছিলেন।

তার সুস্থ হয়ে ওঠার ঘটনাটি নজিরবিহীন হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞ এবং তার আইনি দলের সদস্যরা। ধারণা করা হচ্ছে যে, প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেয়ার পরও তিনিই একমাত্র ব্যক্তি, যিনি বেঁচে গেছেন।

ক্রিস্টা পাইকের শারীরিক অবস্থার উন্নতিকে ‘চিকিৎসাগতভাবে অভূতপূর্ব’ বলে অভিহিত করেছেন তার আইনজীবীরা। যদিও তার পুরো সুস্থ হয়ে ওঠার বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত, ‘তার সুস্থ হয়ে উঠতে দীর্ঘ সময় লাগবে বলেই মনে হচ্ছে’।

ফোর্ডহ্যাম ল স্কুলের অপরাধবিজ্ঞানী ও অধ্যাপক ডেবোরা ডেনো বলেছেন, পাইক যে জ্ঞান ফিরে পেয়েছেন এবং কথা বলছেন, তাতেই তিনি ‘একেবারে হতবাক’ হয়েছেন।

ডেনো জানিয়েছেন, আরো সাতটি ঘটনা ছিল যেখানে বন্দীরা নির্ধারিত মৃত্যুদণ্ড থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন, কিন্তু সেসব ক্ষেত্রে জল্লাদরা বন্দীদের শিরায় কোনো কিছু প্রবেশ করাতে পারেনি।

তিনি বলেন, ‘পাইকই একমাত্র ব্যক্তি যাকে কোনো ধরনের বিষাক্ত পদার্থ ইনজেকশনের মাধ্যমে দেয়া হয়েছে। বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাদের যা যা করার কথা ছিল, তারা তার সবই করেছিল, কিন্তু তা কাজ করেনি। এমনটা আগে কখনো ঘটেনি।’

কর্তৃপক্ষ এখনো জানায়নি যে, তারা পাইককে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার জন্য আবার চেষ্টা করবে কিনা। তাকে পেন্টোবার্বিটাল নামক রাসায়নিক ইনজেকশন দেয়ার পর কী ভুল হয়েছিল, সে বিষয়েও তারা কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।

টেনেসি অঙ্গরাজ্যের গভর্নর বিল লি বছরের বাকি সময়ের জন্য সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা স্থগিত করেছেন এবং রাজ্যের কারা প্রধান জানিয়েছেন যে তিনি পদত্যাগ করার পরিকল্পনা করছেন।

নিজের ১৮ বছর বয়সে, পাইক এবং তার সেই সময়কার প্রেমিক ট্যাডারিল শিপ, স্লেমার নামে ১৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে মারধর ও নির্যাতনের পর হত্যা করে। সমস্যাগ্রস্ত কিশোর-কিশোরীদের জন্য একটি কর্ম প্রশিক্ষণ শিবিরে তাদের পরিচয় হয়েছিল।

পাইকের আইনজীবীদের বুধবার (৭ অক্টোবর) ন্যাশভিলের আদালতে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে। তারা আদালতের বাইরে একটি সংবাদ সম্মেলন করারও পরিকল্পনা করছেন।

পাইকের চিকিৎসক দলের উপদেষ্টা হিসেবে থাকা অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট ডক্টর জোয়েল জিভোট মঙ্গলবার বলেছেন যে, প্রাণঘাতী ইনজেকশনের পর সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা কম।

তিনি আরো বলেন, ‘যাদের প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেয়া হয়, তাদের বেশিভাগই মারা যায়। সত্যি বলতে, ক্রিস্টা ছাড়া প্রায় সবাই-ই মারা গেছে। তাই তার বেঁচে যাওয়াটা ছিল অস্বাভাবিক।’

জিভোট বলেন, তবে এখনো অনেক অনিশ্চয়তা ও অজানা বিষয় রয়ে গেছে। যার মধ্যে রয়েছে তার শরীরে কী পরিমাণ পেন্টোবার্বিটাল প্রবেশ করেছিল, ইনজেকশন দেয়ার পর তার রক্তে এর মাত্রা কেমন ছিল এবং তার সেরে ওঠার প্রক্রিয়াটি কেমন হবে।

তিনি মন্তব্য করেন, ‘এই মুহূর্তে আমি কোনোভাবেই বলব না যে তার সব বড় ঝুঁকি কেটে গেছে।’

জিভোট এর আগে বলেছিলেন যে, গত সপ্তাহে তাকে যে পেন্টোবার্বিটালের দু’টি ডোজ দেয়া হয়েছিল, তা যদি স্বাভাবিকভাবে তার রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করত, তবে ‘তিনি নিশ্চিতভাবে মারা যেতেন’।

এছাড়াও তিনি বলেন, এই ঘটনার একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হলো, পেন্টোবার্বিটাল পাইকের রক্তপ্রবাহে প্রবেশ না করে সম্ভবত তার ত্বকের নিচের টিস্যুতে ছড়িয়ে পড়েছিল।

জিভোট গত সপ্তাহে বলেছিলেন যে, তাকে বাঁচানোর চেষ্টা কিছুটা দেরিতে হওয়ায় তার মস্তিষ্কে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা ‘খুবই বেশি’।

তিনি এটাও বিশ্বাস করতেন যে, পাইকের অবস্থা পুরোপুরি বুঝতে এবং আবারো পরীক্ষা করতে প্রায় এক সপ্তাহ সময় লাগবে। তার মৃত্যুদণ্ডের ব্যর্থ চেষ্টার পর এখন ছয় দিন কেটে গেছে।

পাইকের আইনজীবীরা আগে সতর্ক করেছিলেন যে, তার শারীরিক অবস্থা এবং থ্রম্বোসাইটোসিস (রক্ত জমাট বাঁধার একটি অবস্থা) ও সরু শিরার মতো শারীরিক গঠনের কারণে প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেয়ার সময় তিনি ‘অপ্রয়োজনীয়’ ব্যথা ও যন্ত্রণার শিকার হতে পারেন।

মঙ্গলবার তারা জানিয়েছে যে, তার দুই বাহু ‘গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত’ হয়েছে।

ডেথ পেনাল্টি ইনফরমেশন সেন্টার, যেখানে এই ধরনের মামলার তথ্য সংগ্রহ করা হয়, তাদের মতে, ২০২২ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে কার্যকর হওয়া এক-তৃতীয়াংশের বেশি মৃত্যুদণ্ড ত্রুটিপূর্ণ বা অত্যন্ত সমস্যাযুক্ত ছিল।

প্রাণঘাতী ইনজেকশনের ক্ষেত্রে এই ধরনের ঘটনা সাধারণত শিরায় নির্ভরযোগ্যভাবে আইভি অ্যাক্সেস পেতে অসুবিধার কারণে ঘটে থাকে, যদিও এর অন্তর্নিহিত কারণ ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হয়।

কেন্দ্রটির নথিভুক্ত করা ঘটনাগুলোতে, যেসব ক্ষেত্রে ব্যর্থতার ঘটনা ঘটেছে তার প্রায় সবগুলোই প্রাণঘাতী ওষুধ প্রয়োগের আগে।

ট্র্যাক করা সর্বশেষ ব্যর্থ প্রাণঘাতী ইনজেকশনের ঘটনাও এই বছরের শুরুতে ঘটেছিল, সেটিও টেনেসিতে।

১৯৯৪ সালে তিনজনকে অপহরণ ও হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত টনি ক্যারুথার্সের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া মে মাসে স্থগিত করা হয়েছিল, কারণ প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেয়ার জন্য একটি শিরা খুঁজে পেতেই ব্যর্থ হন কর্মীরা।

পরে গভর্নর এক বছরের জন্য তার সাজা কার্যকর স্থগিত করেন।

সূত্র : বিবিসি

Share this news as a Photo Card