পঞ্চগড়ে বিদ্যালয়ের তালা ভেঙে ১১ ফ্যান চুরি
- আপডেট সময় : ০২:৩৯:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬ ২৯ বার পড়া হয়েছে
পঞ্চগড় সদর উপজেলায় রাতের আঁধারে বিদ্যালয়ের তালা ভেঙে ১১টি বৈদ্যুতিক ফ্যান চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় চোরেরা বিদ্যালয়ের একটি সাউন্ড সিস্টেম ও সততা স্টোরে রাখা কিছু টাকাও নিয়ে গেছে। তবে বিদ্যালয়ের কাঠের আলমারিতে থাকা ল্যাপটপ ও একটি প্রজেক্টরের সরঞ্জাম অক্ষত রয়েছে।
শনিবার দিবাগত রাতে সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের বুড়িরবান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ চুরির ঘটনা ঘটে।
রবিবার সকালে বিদ্যালয়ে এসে শিক্ষকরা অফিস কক্ষ এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান। পরে বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষ পরিদর্শন করে ১১টি ফ্যান চুরি হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হন। এর মধ্যে অফিস কক্ষ থেকে চারটি এবং চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির কক্ষ থেকে আরও সাতটি ফ্যান নিয়ে গেছে চোরেরা।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ধারণা, চোরেরা মূল ফটকের তালা বা গেট ভাঙেনি। বরং বিদ্যালয়ের বারান্দার গ্রিল ব্যবহার করে দোতলায় উঠে ভেতরে প্রবেশ করেছে। চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি স্ক্রু ড্রাইভারও বিদ্যালয়ে ফেলে গেছে তারা। এছাড়া চোরেরা বিদ্যালয়ের একটি টেবিল ব্যবহার করায় সেখানে জুতার স্পষ্ট ছাপ পাওয়া গেছে।
চুরির ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ফ্যানগুলো চুরি হয়ে যাওয়ায় গরমের মধ্যে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, সকালে নিজ নিজ শ্রেণিকক্ষে গিয়ে ফ্যানের সুইচ চালু করতে গিয়ে তারা দেখতে পায় ফ্যান চলছে না। পরে ওপরে তাকিয়ে দেখে কক্ষগুলো থেকে ফ্যান খুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। প্রচণ্ড গরমে ফ্যান ছাড়া ক্লাস করতে তাদের বেশ কষ্ট হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর বাবা রমেন চন্দ্র রায় বলেন, “সকালে ছেলেকে বিদ্যালয়ে দিতে এসে শুনি ১১টি ফ্যান চুরি হয়েছে। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। আমরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।”
বুড়িরবান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হারুন অর রশীদ বলেন, “প্রতিদিনের মতো সকালে এসে বিদ্যালয়ের তালা খুলে অফিসকক্ষ এলোমেলো দেখতে পাই। টেবিলের ওপর জুতার ছাপও দেখা যায়। পরে ওপরে তাকিয়ে দেখি চারটি ফ্যান নেই। চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির কক্ষেও আরও সাতটি ফ্যান নেই। চোরেরা একটি সাউন্ড সিস্টেম ও সততা স্টোরে রাখা কিছু টাকাও নিয়ে গেছে।”
তিনি আরও বলেন, “ছুটির পর আমরা বিদ্যালয় থেকে চলে যাই। তবে স্থানীয়দের কাছ থেকে শুনেছি, কিছুদিন ধরে সন্ধ্যার পর বিদ্যালয় এলাকায় কিছু লোকজন আড্ডা দেয় এবং মাদক সেবন করে। তারাই এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। এখনো থানায় কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি। তবে বিষয়টি সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।”
এ বিষয়ে পঞ্চগড় সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আশীষ কুমার শীল বলেন, “বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখনো থানায় কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
চুরির ঘটনায় বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়রা।




















