প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে মুহুরী-কহুয়া প্রকল্পের পুনর্বাসন কাজের উদ্বোধন
- আপডেট সময় : ০১:৩৯:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬ ৩৯ বার পড়া হয়েছে
ফেনীর পরশুরাম উপজেলার ঘাটঘর-মুহুরী ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (১ম পর্যায়) কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রকল্পটির পুনর্বাসন কাজের উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
অনুষ্ঠানে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, মুহুরী ও কহুয়া নদীর অববাহিকার মানুষের কাছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি নিষ্কাশন শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয় নয়; এটি তাদের জীবন-জীবিকা, কৃষি, অর্থনীতি ও নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। প্রতিবছর বন্যায় এ অঞ্চলের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও সম্পদের ক্ষতি হয়। এ প্রকল্পের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা বাস্তবায়নের পথে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হলো।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ফেনীর মুহুরী ব্রিজ ও এ অঞ্চলের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। ১৯৯৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এ এলাকায় এসে মুহুরী ব্রিজ উদ্বোধন করেছিলেন। দীর্ঘ সময় পর একই জনপদে তাঁর সন্তান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন কাজের উদ্বোধন একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।
তিনি আরও বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পরশুরাম, ফুলগাজীসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার বিস্তীর্ণ জনপদ বন্যার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষা পাবে। পাশাপাশি নদীতীর সংরক্ষণ, পানি নিষ্কাশন, নদী ও জলাধার পুনঃখনন এবং সেচ অবকাঠামোর উন্নয়নের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, বর্তমান সরকার পানি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, নদ-নদীর নাব্যতা রক্ষা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে গুণগত মান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের মতামত ও অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
প্রকল্পের আওতায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন, ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ৭৭টি ইনলেট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ফেনী অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ও দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের উদ্বোধন এলাকাবাসীর মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বন্যাপ্রবণ এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আর্থসামাজিক অগ্রগতির নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।
প্রকল্পটির অনুমোদিত ব্যয় ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ফেনী অঞ্চলের বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন ও কৃষি ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
অনুষ্ঠানে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ এবং বিপুলসংখ্যক স্থানীয় জনগণ উপস্থিত ছিলেন।




















