ঢাকা ০৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo অর্থাভাবে থমকে যাওয়ার পথে শুভর পড়াশোনা, সহায়তায় এবিজি ফাউন্ডেশন Logo দেবীগঞ্জে স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পত্তি দখলের অভিযোগ  Logo বিদেশে পড়াশোনার সুযোগ জানতে বসছে আন্তর্জাতিক শিক্ষা মেলা Logo অটিজমে অবদান থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট, আন্তর্জাতিক দুই স্বীকৃতি ইয়াশা সোবহানের Logo বিশ্ববিদ্যালয় ফুটবলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও সম্প্রীতির মঞ্চ এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ Logo এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬ শুরু, উদ্বোধনে সাবেক তারকা ক্রিকেটাররা Logo ইউরোপে পোশাকের বাজারে মন্দাভাব, উদ্বেগে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা Logo ৩০ লাখ টাকার প্রাইজমানি, আজ শুরু মাঠের লড়াই Logo বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় জাপানের সহযোগিতা আরও বিস্তারের প্রত্যাশা Logo এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপের ক্রিকেট ও ফুটবল ম্যাচের সময়সূচি একনজরে

পঞ্চগড়ে স্বামীর মৃত্যুর শোকে ৯ ঘন্টা পরই প্রকণ গেল স্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • আপডেট সময় : ০২:০১:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে

স্বামীর মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে প্রাণ হারালেন স্ত্রী। পরবর্তীতে স্বামী ও স্ত্রীর মরদেহ পাশাপাশি চিতায় দাহ করা হয়েছে। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের মালিগাঁও গ্রামে।

নিহত ওই নারীর নাম নিত্য বালা বর্মন (৭০)। তাঁর স্বামী হরেন্দ্রনাথ বর্মন (৮০) এলাকার একটি মন্দিরের পূজারি ছিলেন। স্ত্রী নিত্য বালাও নিয়মিত তাঁর সঙ্গে পূজার কাজে যুক্ত থাকতেন।

স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত ৯টার দিকে বার্ধক্যজনিত কারণে নিজ বাড়িতে মারা যান হরেন্দ্রনাথ বর্মন। স্বামীর মৃত্যুর পর রাতভর তাঁর মরদেহের পাশে বসে কান্নাকাটি করেন স্ত্রী নিত্য বালা। বাড়িতে তখন স্বজনদের ভিড় ছিল। এর মাঝেই মঙ্গলবার ভোরে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পরতাঁকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে সকালে স্বজনেরা বাড়ির পাশের রেললাইনে তাঁর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।

স্বজনদের দাবি, স্বামীর মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে তিনি রেললাইনে গিয়ে শুয়ে পড়েন এবং রাজশাহী থেকে পঞ্চগড়গামী বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়। পরে স্বজনেরা সেখান থেকে মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান। মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পরিবারের ফসলি জমির পাশে তৈরি করা শ্মশানে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ পাশাপাশি চিতায় দাহ করা হয়।

নিহত দম্পতির ছেলে রবীন চন্দ্র বর্মণ বলেন, ‘আমার বাবা অনেকদিন ধরে বার্ধক্যজনিত কারণে অসুস্থ ছিলেন। সোমবার রাত ৯টার দিকে তিনি মারা যান। মা বাবাকে খুব ভালোবাসতেন। সারারাত বাবার পাশে বসে কেঁদেছেন। সকালে মা বাড়ির বাইরে বের হওয়ার পর তাঁকে আর পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে আত্মীয়রা রেললাইনে মায়ের মরদেহদেখতে পান। আমরা মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসি। আজ বাবা-মায়ের একসঙ্গে সৎকার করা হয়েছে। সবাই তাঁদের জন্য আশীর্বাদ করবেন।’

এ বিষয়ে আটোয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিয়ার রহমান বলেন, ‘ঘটনার পর স্বজনরা মরদেহ উদ্ধার করে সৎকার করেছেন বলে আমরা পরে জানতে পেরেছি। যেহেতু রেললাইনে কাটা পড়ে মৃত্যুর ঘটনা, তাই রেলওয়ে পুলিশ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

Share this news as a Photo Card

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ট্যাগস :
29 September 2026

পঞ্চগড়ে স্বামীর মৃত্যুর শোকে ৯ ঘন্টা পরই প্রকণ গেল স্ত্রীর

www.uttorersongbad.com

পঞ্চগড়ে স্বামীর মৃত্যুর শোকে ৯ ঘন্টা পরই প্রকণ গেল স্ত্রীর

আপডেট সময় : ০২:০১:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্বামীর মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে প্রাণ হারালেন স্ত্রী। পরবর্তীতে স্বামী ও স্ত্রীর মরদেহ পাশাপাশি চিতায় দাহ করা হয়েছে। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের মালিগাঁও গ্রামে।

নিহত ওই নারীর নাম নিত্য বালা বর্মন (৭০)। তাঁর স্বামী হরেন্দ্রনাথ বর্মন (৮০) এলাকার একটি মন্দিরের পূজারি ছিলেন। স্ত্রী নিত্য বালাও নিয়মিত তাঁর সঙ্গে পূজার কাজে যুক্ত থাকতেন।

স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত ৯টার দিকে বার্ধক্যজনিত কারণে নিজ বাড়িতে মারা যান হরেন্দ্রনাথ বর্মন। স্বামীর মৃত্যুর পর রাতভর তাঁর মরদেহের পাশে বসে কান্নাকাটি করেন স্ত্রী নিত্য বালা। বাড়িতে তখন স্বজনদের ভিড় ছিল। এর মাঝেই মঙ্গলবার ভোরে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পরতাঁকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে সকালে স্বজনেরা বাড়ির পাশের রেললাইনে তাঁর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।

স্বজনদের দাবি, স্বামীর মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে তিনি রেললাইনে গিয়ে শুয়ে পড়েন এবং রাজশাহী থেকে পঞ্চগড়গামী বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়। পরে স্বজনেরা সেখান থেকে মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান। মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পরিবারের ফসলি জমির পাশে তৈরি করা শ্মশানে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ পাশাপাশি চিতায় দাহ করা হয়।

নিহত দম্পতির ছেলে রবীন চন্দ্র বর্মণ বলেন, ‘আমার বাবা অনেকদিন ধরে বার্ধক্যজনিত কারণে অসুস্থ ছিলেন। সোমবার রাত ৯টার দিকে তিনি মারা যান। মা বাবাকে খুব ভালোবাসতেন। সারারাত বাবার পাশে বসে কেঁদেছেন। সকালে মা বাড়ির বাইরে বের হওয়ার পর তাঁকে আর পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে আত্মীয়রা রেললাইনে মায়ের মরদেহদেখতে পান। আমরা মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসি। আজ বাবা-মায়ের একসঙ্গে সৎকার করা হয়েছে। সবাই তাঁদের জন্য আশীর্বাদ করবেন।’

এ বিষয়ে আটোয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিয়ার রহমান বলেন, ‘ঘটনার পর স্বজনরা মরদেহ উদ্ধার করে সৎকার করেছেন বলে আমরা পরে জানতে পেরেছি। যেহেতু রেললাইনে কাটা পড়ে মৃত্যুর ঘটনা, তাই রেলওয়ে পুলিশ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

Share this news as a Photo Card