আ.লীগের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকার নেবে: যুক্তরাষ্ট্র
- আপডেট সময় : ০৪:০১:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশের আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকারকেই নিতে হবে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারত আলোচনার মাধ্যমে একটি সমাধানে পৌঁছাবে বলে আশা প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন।
তবে শেখ হাসিনার সঙ্গে কী করা উচিত—এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো কোনো নির্দিষ্ট বা আনুষ্ঠানিক অবস্থান নেয়নি বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
নিউইয়র্কের ফরেন প্রেস সেন্টারে গত বুধবার আয়োজিত এক ‘অন-ব্যাকগ্রাউন্ড’ ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের এ অবস্থান তুলে ধরেন মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা। ‘একটি স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ ও সার্বভৌম দক্ষিণ এশিয়ার সমর্থনে মার্কিন নীতি’শীর্ষক ওই ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার সাংবাদিকরা অংশ নেন।
শেখ হাসিনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান
২০২৪ সালের আন্দোলনের পর ক্ষমতাচ্যুত হয়ে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে গত নভেম্বরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁর অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়।
সম্প্রতি শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বর নাগাদ দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের ঘোষণা দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি নিজের নিরাপত্তা এবং অনুপস্থিতিতে চলা বিচারপ্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ চেয়েছেন।
ব্রিফিংয়ে শেখ হাসিনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান জানতে চাইলে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা বলেন, এ বিষয়ে ওয়াশিংটন এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান নেয়নি।
তিনি বলেন, বিষয়টি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই দুই দেশ নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে একটি সমাধানে পৌঁছাবে বলে যুক্তরাষ্ট্র আশা করে।
তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার সঙ্গে কী হওয়া উচিত, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো কোনো নির্দিষ্ট অবস্থান জানায়নি।
আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের
ব্রিফিংয়ে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান জানতে চান এক সাংবাদিক।জবাবে মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য করতে চান না তিনি। তবে বাংলাদেশের সঙ্গে এবং বিএনপির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক বর্তমানে ‘খুবই চমৎকার’ অবস্থায় রয়েছে বলে জানান।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে চায় এবং বাংলাদেশকে আরও শক্তিশালী, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ করার প্রচেষ্টায় পাশে থাকতে চায়।
আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত কার—এ বিষয়ে সরাসরি প্রশ্ন করা হলে ওই কর্মকর্তা বলেন,
যুক্তরাষ্ট্র-ভারত-চীন সম্পর্ক নিয়ে মার্কিন অবস্থান
বাংলাদেশ একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও চীনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছে—এ প্রসঙ্গে এক সাংবাদিক জানতে চান, তিন বৃহৎ শক্তির মধ্যে কাউকে বেছে না নিয়ে কীভাবে বাংলাদেশের পক্ষে সবার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা সম্ভব।
জবাবে মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ একটি জটিল অঞ্চলে অবস্থিত। যুক্তরাষ্ট্র সবসময় প্রত্যেক দেশকে তার নিজস্ব পরিমণ্ডলে অবস্থান করার বিষয়ে উৎসাহিত করে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব সুসংহত রাখা এবং দেশের ব্যবস্থাকে নিরাপদ রাখতে যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা করতে চায়।তাঁর বক্তব্যের সারকথা ছিল—বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত বা চীনের মধ্যে কাউকে বেছে নেওয়ার প্রয়োজন নেই; বরং যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে এসব দেশের জন্য একটি বিকল্প অংশীদার হিসেবে তুলে ধরতে চায়।
তারেক রহমানের সঙ্গে ট্রাম্পের সাক্ষাৎ নিয়ে যা বলল যুক্তরাষ্ট্র
ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য সাক্ষাৎ নিয়েও প্রশ্ন করা হয়।
এক সাংবাদিক উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ট্রাম্প তারেক রহমানকে চিঠি লিখেছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে বৈঠকের আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। নিউইয়র্কে দুই নেতার সাক্ষাতের সম্ভাবনা রয়েছে কি না—জানতে চাওয়া হয়।জবাবে মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, প্রেসিডেন্টের সময়সূচি সম্পর্কে তিনি কোনো মন্তব্য করতে পারবেন না।
তবে তিনি জানান, এ সপ্তাহে ট্রাম্প বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে খুব সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য সাক্ষাতের সুযোগ পেয়েছেন। ওই সময় ছবি তোলার সুযোগও হয়েছিল। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সব পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাৎ বা ছবি তোলার সুযোগ হয়নি।
দক্ষিণ এশিয়া নিয়ে মার্কিন নীতি
ব্রিফিংয়ের আগে নিউইয়র্কের ফরেন প্রেস সেন্টারে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক উপ-সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিথানী মরিসন দক্ষিণ এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি নিয়ে বক্তব্য দেন।পরে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে ফটো সেশনে অংশ নেন।
সূত্র কালবেলা:























