ঢাকা ০২:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo অর্থাভাবে থমকে যাওয়ার পথে শুভর পড়াশোনা, সহায়তায় এবিজি ফাউন্ডেশন Logo দেবীগঞ্জে স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পত্তি দখলের অভিযোগ  Logo বিদেশে পড়াশোনার সুযোগ জানতে বসছে আন্তর্জাতিক শিক্ষা মেলা Logo অটিজমে অবদান থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট, আন্তর্জাতিক দুই স্বীকৃতি ইয়াশা সোবহানের Logo বিশ্ববিদ্যালয় ফুটবলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও সম্প্রীতির মঞ্চ এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ Logo এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬ শুরু, উদ্বোধনে সাবেক তারকা ক্রিকেটাররা Logo ইউরোপে পোশাকের বাজারে মন্দাভাব, উদ্বেগে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা Logo ৩০ লাখ টাকার প্রাইজমানি, আজ শুরু মাঠের লড়াই Logo বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় জাপানের সহযোগিতা আরও বিস্তারের প্রত্যাশা Logo এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপের ক্রিকেট ও ফুটবল ম্যাচের সময়সূচি একনজরে

কওমি মাদরাসা কি তার শেষ দেখে ফেলেছে?

মুফতি মুহাম্মদ ইখতিয়ার হুসাইন
  • আপডেট সময় : ০২:১২:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯০ বার পড়া হয়েছে

ভারতীয় উপমহাদেশে কওমি মাদরাসা কি তার শেষ দেখে ফেলেছে, না হলে এতো বলৎকারের ঘটনা সামনে আসছে, অন্যের স্ত্রী ভাগিয়ে নেয়া আর অনৈতিক সম্পর্কের সংবাদ গণমাধ্যমে ফলাও হচ্ছে কিন্তু নীতিনির্ধারণী ফোরামের দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই কেন?

ফজর পড়িয়ে মেহরাবে বসেই একাকী জিকির করছিলাম, দু’জন অচেনা আগন্তুক এসে সালাম করে সামনে বসলেন। ভূমিকা ছাড়াই বলতে শুরু করলেন- বাসা সাভারের রাজাসনে। নিজের বয়স চল্লিশ বছর, স্ত্রীর বয়স চৌত্রিশ বছর। ষোলো বছরের দাম্পত্য জীবনে রয়েছে দু’জন পুত্র সন্তান, বড় ছেলের বয়স এগারো বছর আর ছোট ছেলের সাত বছর। দুই ছেলেকেই মাদরাসায় ভর্তি করে দিয়েছিল। সেই মাদরাসার শিশু শ্রেণির বাইশ বছর বয়সী এক শিক্ষকের সাথে দু’দিন আগে ভেগে গেছে স্ত্রী!

সাভারের এক মাদরাসায় ছয়জন মিলে এক শিশুকে বলৎকারের পৈশাচিক ঘটনা সামনে আসার সপ্তাহখানেকের মধ্যে ঘটলো শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রের মা নিয়ে ভেগে যাওয়ার ঘটনা। এমন সংবাদ এখন সারাদেশে অহরহ। কিছু অসত্য এবং ষড়যন্ত্র হলেও সত্য ঘটনাও কিন্তু কম নয়!

আমাদের ছাত্রজীবনেও ঘটতো এমন ঘটনা কিন্তু কম, এখন অহরহ ঘটছে। মাদরাসা কর্তৃপক্ষ প্রশাসনকে সাথে নিয়ে বিভাগীয় তদন্তের চেয়ে ধামাচাপা দিতেই বেশি আগ্রহী হিসেবে দেখা যাচ্ছে আর পূর্ব মনিটরিং কিংবা অপরাধের পর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি তো নেই বললেই চলে।

মামুনুল হক সাহেব রয়েল রিসোর্টে নারী সহ আটকা পড়েছিলেন। বৈধ বা অবৈধ, ষড়যন্ত্র কিংবা সত্য যাই হোক না কেন যেহেতু নারী সহ আটকা পড়েছিলেন এবং পরিবার সেই নারী স্ত্রী হওয়া সম্পর্কে অবগত ছিল না তাই বৃহত্তর স্বার্থে দরকার ছিল প্রাথমিক শোকজ করে মাদরাসার বিজ্ঞজনদের নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিষয়টির দালিলিক সত্যমিথ্যা স্পষ্ট করে শোকজ কিংবা সহায়তা করা কিন্তু করা হলো কি, হেফাজতের কেন্দ্র থেকে শুরু করে একচেটিয়া সবাই গেয়ে গেলো হক সাহেবের সাফাই, আমিও আবেগে সাফাই গেয়েছিলাম কিন্তু ফলাফল কি হলো ব্যক্তিকে রক্ষা করতে গিয়ে পুরো কওমি কমিউনিটিকে ফেলা হলো ঝুঁকিতে। মানুষ আস্থা হারালো, কওমির তৃণমূলে গেলো ভুল বার্তা! তখন থেকে বউ নিয়ে ভাগা আর বলৎকার সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে সংক্রমণের মতো।

অবশ্য এর আগে হাবিবুর রহমান মিসবাহ কুয়াকাটাও করেছিলেন একই কাজ, বরং কয়েক ধাপ এগিয়ে তিনি গোপনে প্রকাশ্যে অন্যের বউ ভাগিয়ে করেছেন প্রায় অর্ধডজন বিয়ে! মিসবাহর দু’য়েকটা ভণিতার বিরুদ্ধে কলাম লেখে অবশ্য আমি মামলার হুমকি খেয়েছিলাম সেই ২০১৯সালেই। কিন্তু কওমি মাদরাসা নীতি নির্ধারনী ফোরাম মিসবাহর বিরুদ্ধে কি নিয়েছে কোনও পদক্ষেপ?
যাগ গে এই প্রসঙ্গে আরেক দিন লেখবো দীর্ঘ লেখা।

রামিসা হত্যার পর সবাই যখন শরীয়াহর আইন চাচ্ছিলেন তখন থেকে বিদেশি প্রভুদের সেবাদাস মিডিয়াগুলো মাদরাসার কেলেংকারী ছড়াতে আদাজল খেয়ে নেমে পড়েছে সত্য তবে মাদরাসায় যে বলৎকারের ঘটনা ঘটছে না তেমনটাও তো নয়!

যত্রতত্র গড়ে উঠছে মাদরাসা, নেই নূন্যতম মান নির্ণয়, নির্ধারণ, মনিটরিং কিংবা অনুমোদনের প্রয়োজনীয়তা কিন্তু কেন?

কেন নিয়ম হয় না ছয় বোর্ডের শর্ত পূরণ, অনুমোদন, মনিটরিং এবং নিয়মিত অডিট ছাড়া কোনও মাদরাসা খোলা কিংবা পরিচালনা করা যাবে না। প্রয়োজনে বিভাগীয় কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। নয়তো এভাবে চলতে থাকলে মাদরাসা অতিসঙ্গোপনে আস্থা হারাবে। একটা সময় সচেতন আলেমরাও নিজেদের সন্তানকে মাদরাসায় পড়াতে অনাগ্রহী হয়ে পড়বেন।

আমাদের সময় দেখতাম বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ডাক্তার এবং ইঞ্জিনিয়াররা সন্তানকে মাদরাসায় পড়াতেন আর বলতেন ছেলেটা টাকা কামাতে না পাড়লেও মাদক ও নারী আসক্তি থেকে দূরে থাকবে, সৎ মানুষ হবে। এভাবে বলৎকার আর পরনারী সহ ধরা পড়লে কি আর তারা মাদরাসায় পড়াতে আস্থা পাবেন?

ভারতে তো ঘোষণা দিয়েই মাদরাসা বন্ধ করা হচ্ছে, বাংলাদেশে যদি এভাবে বলৎকারের ঘটনা ঘটতেই থাকে তবে কি আস্থা হারিয়েই সমাপ্তির দিকে যাবে না উপমহাদেশের সর্বপ্রাচীন মহান এই শিক্ষাকারিকুলাম?

আমার বিশ্বাস দ্বীনের আলোক বর্তিকা হয়ে কেয়ামত তক থেকে যাবে কওমি কিন্তু নীতিনির্ধারণী ফোরামের সংকটকালীন ভূমিকা কি?

লেখক:
কবি, কথাসাহিত্যিক, গবেষক ও উপস্থাপক
ইমাম ও খতীব, বিরুলিয়া সেন্ট্রাল জামে মসজিদ ঢাকা
সাহিত্য সম্পাদক, জাতীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র

Share this news as a Photo Card

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ট্যাগস :
23 September 2026

কওমি মাদরাসা কি তার শেষ দেখে ফেলেছে?

www.uttorersongbad.com

কওমি মাদরাসা কি তার শেষ দেখে ফেলেছে?

আপডেট সময় : ০২:১২:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারতীয় উপমহাদেশে কওমি মাদরাসা কি তার শেষ দেখে ফেলেছে, না হলে এতো বলৎকারের ঘটনা সামনে আসছে, অন্যের স্ত্রী ভাগিয়ে নেয়া আর অনৈতিক সম্পর্কের সংবাদ গণমাধ্যমে ফলাও হচ্ছে কিন্তু নীতিনির্ধারণী ফোরামের দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই কেন?

ফজর পড়িয়ে মেহরাবে বসেই একাকী জিকির করছিলাম, দু’জন অচেনা আগন্তুক এসে সালাম করে সামনে বসলেন। ভূমিকা ছাড়াই বলতে শুরু করলেন- বাসা সাভারের রাজাসনে। নিজের বয়স চল্লিশ বছর, স্ত্রীর বয়স চৌত্রিশ বছর। ষোলো বছরের দাম্পত্য জীবনে রয়েছে দু’জন পুত্র সন্তান, বড় ছেলের বয়স এগারো বছর আর ছোট ছেলের সাত বছর। দুই ছেলেকেই মাদরাসায় ভর্তি করে দিয়েছিল। সেই মাদরাসার শিশু শ্রেণির বাইশ বছর বয়সী এক শিক্ষকের সাথে দু’দিন আগে ভেগে গেছে স্ত্রী!

সাভারের এক মাদরাসায় ছয়জন মিলে এক শিশুকে বলৎকারের পৈশাচিক ঘটনা সামনে আসার সপ্তাহখানেকের মধ্যে ঘটলো শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রের মা নিয়ে ভেগে যাওয়ার ঘটনা। এমন সংবাদ এখন সারাদেশে অহরহ। কিছু অসত্য এবং ষড়যন্ত্র হলেও সত্য ঘটনাও কিন্তু কম নয়!

আমাদের ছাত্রজীবনেও ঘটতো এমন ঘটনা কিন্তু কম, এখন অহরহ ঘটছে। মাদরাসা কর্তৃপক্ষ প্রশাসনকে সাথে নিয়ে বিভাগীয় তদন্তের চেয়ে ধামাচাপা দিতেই বেশি আগ্রহী হিসেবে দেখা যাচ্ছে আর পূর্ব মনিটরিং কিংবা অপরাধের পর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি তো নেই বললেই চলে।

মামুনুল হক সাহেব রয়েল রিসোর্টে নারী সহ আটকা পড়েছিলেন। বৈধ বা অবৈধ, ষড়যন্ত্র কিংবা সত্য যাই হোক না কেন যেহেতু নারী সহ আটকা পড়েছিলেন এবং পরিবার সেই নারী স্ত্রী হওয়া সম্পর্কে অবগত ছিল না তাই বৃহত্তর স্বার্থে দরকার ছিল প্রাথমিক শোকজ করে মাদরাসার বিজ্ঞজনদের নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিষয়টির দালিলিক সত্যমিথ্যা স্পষ্ট করে শোকজ কিংবা সহায়তা করা কিন্তু করা হলো কি, হেফাজতের কেন্দ্র থেকে শুরু করে একচেটিয়া সবাই গেয়ে গেলো হক সাহেবের সাফাই, আমিও আবেগে সাফাই গেয়েছিলাম কিন্তু ফলাফল কি হলো ব্যক্তিকে রক্ষা করতে গিয়ে পুরো কওমি কমিউনিটিকে ফেলা হলো ঝুঁকিতে। মানুষ আস্থা হারালো, কওমির তৃণমূলে গেলো ভুল বার্তা! তখন থেকে বউ নিয়ে ভাগা আর বলৎকার সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে সংক্রমণের মতো।

অবশ্য এর আগে হাবিবুর রহমান মিসবাহ কুয়াকাটাও করেছিলেন একই কাজ, বরং কয়েক ধাপ এগিয়ে তিনি গোপনে প্রকাশ্যে অন্যের বউ ভাগিয়ে করেছেন প্রায় অর্ধডজন বিয়ে! মিসবাহর দু’য়েকটা ভণিতার বিরুদ্ধে কলাম লেখে অবশ্য আমি মামলার হুমকি খেয়েছিলাম সেই ২০১৯সালেই। কিন্তু কওমি মাদরাসা নীতি নির্ধারনী ফোরাম মিসবাহর বিরুদ্ধে কি নিয়েছে কোনও পদক্ষেপ?
যাগ গে এই প্রসঙ্গে আরেক দিন লেখবো দীর্ঘ লেখা।

রামিসা হত্যার পর সবাই যখন শরীয়াহর আইন চাচ্ছিলেন তখন থেকে বিদেশি প্রভুদের সেবাদাস মিডিয়াগুলো মাদরাসার কেলেংকারী ছড়াতে আদাজল খেয়ে নেমে পড়েছে সত্য তবে মাদরাসায় যে বলৎকারের ঘটনা ঘটছে না তেমনটাও তো নয়!

যত্রতত্র গড়ে উঠছে মাদরাসা, নেই নূন্যতম মান নির্ণয়, নির্ধারণ, মনিটরিং কিংবা অনুমোদনের প্রয়োজনীয়তা কিন্তু কেন?

কেন নিয়ম হয় না ছয় বোর্ডের শর্ত পূরণ, অনুমোদন, মনিটরিং এবং নিয়মিত অডিট ছাড়া কোনও মাদরাসা খোলা কিংবা পরিচালনা করা যাবে না। প্রয়োজনে বিভাগীয় কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। নয়তো এভাবে চলতে থাকলে মাদরাসা অতিসঙ্গোপনে আস্থা হারাবে। একটা সময় সচেতন আলেমরাও নিজেদের সন্তানকে মাদরাসায় পড়াতে অনাগ্রহী হয়ে পড়বেন।

আমাদের সময় দেখতাম বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ডাক্তার এবং ইঞ্জিনিয়াররা সন্তানকে মাদরাসায় পড়াতেন আর বলতেন ছেলেটা টাকা কামাতে না পাড়লেও মাদক ও নারী আসক্তি থেকে দূরে থাকবে, সৎ মানুষ হবে। এভাবে বলৎকার আর পরনারী সহ ধরা পড়লে কি আর তারা মাদরাসায় পড়াতে আস্থা পাবেন?

ভারতে তো ঘোষণা দিয়েই মাদরাসা বন্ধ করা হচ্ছে, বাংলাদেশে যদি এভাবে বলৎকারের ঘটনা ঘটতেই থাকে তবে কি আস্থা হারিয়েই সমাপ্তির দিকে যাবে না উপমহাদেশের সর্বপ্রাচীন মহান এই শিক্ষাকারিকুলাম?

আমার বিশ্বাস দ্বীনের আলোক বর্তিকা হয়ে কেয়ামত তক থেকে যাবে কওমি কিন্তু নীতিনির্ধারণী ফোরামের সংকটকালীন ভূমিকা কি?

লেখক:
কবি, কথাসাহিত্যিক, গবেষক ও উপস্থাপক
ইমাম ও খতীব, বিরুলিয়া সেন্ট্রাল জামে মসজিদ ঢাকা
সাহিত্য সম্পাদক, জাতীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র

Share this news as a Photo Card