ঢাকা ০১:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo অর্থাভাবে থমকে যাওয়ার পথে শুভর পড়াশোনা, সহায়তায় এবিজি ফাউন্ডেশন Logo দেবীগঞ্জে স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পত্তি দখলের অভিযোগ  Logo বিদেশে পড়াশোনার সুযোগ জানতে বসছে আন্তর্জাতিক শিক্ষা মেলা Logo অটিজমে অবদান থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট, আন্তর্জাতিক দুই স্বীকৃতি ইয়াশা সোবহানের Logo বিশ্ববিদ্যালয় ফুটবলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও সম্প্রীতির মঞ্চ এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ Logo এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬ শুরু, উদ্বোধনে সাবেক তারকা ক্রিকেটাররা Logo ইউরোপে পোশাকের বাজারে মন্দাভাব, উদ্বেগে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা Logo ৩০ লাখ টাকার প্রাইজমানি, আজ শুরু মাঠের লড়াই Logo বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় জাপানের সহযোগিতা আরও বিস্তারের প্রত্যাশা Logo এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপের ক্রিকেট ও ফুটবল ম্যাচের সময়সূচি একনজরে

ভবন আছে, নেই পাঠদান: দেবীগঞ্জের মল্লিকাদহ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় নিয়ে প্রশ্ন

স্টাফ রিপোর্টার (পঞ্চগড়): প্রীতম কুমার পোদ্দার
  • আপডেট সময় : ১০:৫৯:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৩১ বার পড়া হয়েছে

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার সোনাহার মল্লিকাদহ ইউনিয়নের মল্লিকাদহ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি অর্থে নির্মিত বিদ্যালয় ভবন থাকলেও সরেজমিনে গিয়ে ভবনের দরজায় তালা ঝুলতে দেখা গেছে। এ সময় বিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী বা নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রমের দৃশ্যও চোখে পড়েনি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টিতে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে না। অথচ সরকারি অর্থ ব্যয়ে সেখানে নির্মাণ করা হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন। বর্তমানে ভবনটি তালাবদ্ধ থাকায় সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার এবং বিদ্যালয়টির বর্তমান শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

‎সরেজমিনে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গিয়ে ভবনটি তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখা যায়। তবে বিদ্যালয়ে বর্তমানে কতজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী রয়েছেন, নিয়মিত পাঠদান হয় কি না এবং প্রতিষ্ঠানটির একাডেমিক কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, সরকারি অর্থে ভবন নির্মাণের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিদ্যালয়টির বাস্তব অবস্থা যথাযথভাবে যাচাই করেছিল কি না। ভবন নির্মাণের সময় বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কত ছিল, কতজন শিক্ষক কর্মরত ছিলেন এবং নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম চালু ছিল কি না এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

তাদের বক্তব্য, প্রকল্প গ্রহণের আগে এসব বিষয় যথাযথভাবে যাচাই করা হয়ে থাকলে বর্তমানে সরকারি অর্থে নির্মিত একটি শিক্ষা ভবন কেন তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে, সেটি তদন্ত করা প্রয়োজন।

স্থানীয়দের মতে, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য শুধু অবকাঠামো নির্মাণ করলেই শিক্ষা কার্যক্রম নিশ্চিত হয় না। এর পাশাপাশি প্রয়োজন পর্যাপ্ত শিক্ষক, শিক্ষার্থী, নিয়মিত পাঠদান এবং কার্যকর একাডেমিক পরিবেশ।

তাই বিদ্যালয় ভবন নির্মাণের পাশাপাশি সেটি নিয়মিত ও যথাযথভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না, শিক্ষার্থীরা পাঠগ্রহণ করছে কি না এবং শিক্ষকরা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন কি না এসব বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকি থাকা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

মল্লিকাদহ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি সামনে আসার পর সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও শিক্ষা কর্তৃপক্ষের তদারকি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

‎তাদের দাবি, বিদ্যালয়টির অনুমোদন ও স্বীকৃতির নথি, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর হালনাগাদ তালিকা, উপস্থিতি রেজিস্টার, পাঠদান কার্যক্রমের তথ্য এবং সরকারি অর্থে ভবন নির্মাণের প্রকল্পসংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই করা হোক।

একই সঙ্গে ভবন নির্মাণের প্রকল্প অনুমোদন, প্রাক্কলন, বরাদ্দ, কার্যাদেশ, নির্মাণকাজের পরিমাণ এবং বিল-ভাউচারসহ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পরীক্ষা করে প্রকল্পটি বাস্তব প্রয়োজনের ভিত্তিতে গ্রহণ করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

‎স্থানীয়দের প্রশ্ন, বিদ্যালয়ে যদি নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম না থাকে কিংবা নির্মিত ভবন যথাযথভাবে ব্যবহার না হয়, তাহলে সরকারি অর্থ ব্যয়ে ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছিল?

‎তাদের মতে, সরকারি অর্থ মূলত জনগণের অর্থ। তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয়তা যাচাই থেকে শুরু করে প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়ন প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

এ অবস্থায় মল্লিকাদহ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি সরেজমিন তদন্ত করে প্রকৃত চিত্র প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে সরকারি অর্থে নির্মিত ভবনটি কেন তালাবদ্ধ, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীর বর্তমান অবস্থা কী এবং শিক্ষা কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে কি না এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট বক্তব্যও দাবি করেছেন তারা।

‎এ বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যথাযথভাবে সংযুক্ত করা হবে।

Share this news as a Photo Card

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

23 September 2026

ভবন আছে, নেই পাঠদান: দেবীগঞ্জের মল্লিকাদহ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় নিয়ে প্রশ্ন

www.uttorersongbad.com

ভবন আছে, নেই পাঠদান: দেবীগঞ্জের মল্লিকাদহ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট সময় : ১০:৫৯:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার সোনাহার মল্লিকাদহ ইউনিয়নের মল্লিকাদহ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি অর্থে নির্মিত বিদ্যালয় ভবন থাকলেও সরেজমিনে গিয়ে ভবনের দরজায় তালা ঝুলতে দেখা গেছে। এ সময় বিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী বা নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রমের দৃশ্যও চোখে পড়েনি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টিতে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে না। অথচ সরকারি অর্থ ব্যয়ে সেখানে নির্মাণ করা হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন। বর্তমানে ভবনটি তালাবদ্ধ থাকায় সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার এবং বিদ্যালয়টির বর্তমান শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

‎সরেজমিনে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গিয়ে ভবনটি তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখা যায়। তবে বিদ্যালয়ে বর্তমানে কতজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী রয়েছেন, নিয়মিত পাঠদান হয় কি না এবং প্রতিষ্ঠানটির একাডেমিক কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, সরকারি অর্থে ভবন নির্মাণের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিদ্যালয়টির বাস্তব অবস্থা যথাযথভাবে যাচাই করেছিল কি না। ভবন নির্মাণের সময় বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কত ছিল, কতজন শিক্ষক কর্মরত ছিলেন এবং নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম চালু ছিল কি না এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

তাদের বক্তব্য, প্রকল্প গ্রহণের আগে এসব বিষয় যথাযথভাবে যাচাই করা হয়ে থাকলে বর্তমানে সরকারি অর্থে নির্মিত একটি শিক্ষা ভবন কেন তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে, সেটি তদন্ত করা প্রয়োজন।

স্থানীয়দের মতে, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য শুধু অবকাঠামো নির্মাণ করলেই শিক্ষা কার্যক্রম নিশ্চিত হয় না। এর পাশাপাশি প্রয়োজন পর্যাপ্ত শিক্ষক, শিক্ষার্থী, নিয়মিত পাঠদান এবং কার্যকর একাডেমিক পরিবেশ।

তাই বিদ্যালয় ভবন নির্মাণের পাশাপাশি সেটি নিয়মিত ও যথাযথভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না, শিক্ষার্থীরা পাঠগ্রহণ করছে কি না এবং শিক্ষকরা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন কি না এসব বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকি থাকা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

মল্লিকাদহ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি সামনে আসার পর সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও শিক্ষা কর্তৃপক্ষের তদারকি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

‎তাদের দাবি, বিদ্যালয়টির অনুমোদন ও স্বীকৃতির নথি, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর হালনাগাদ তালিকা, উপস্থিতি রেজিস্টার, পাঠদান কার্যক্রমের তথ্য এবং সরকারি অর্থে ভবন নির্মাণের প্রকল্পসংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই করা হোক।

একই সঙ্গে ভবন নির্মাণের প্রকল্প অনুমোদন, প্রাক্কলন, বরাদ্দ, কার্যাদেশ, নির্মাণকাজের পরিমাণ এবং বিল-ভাউচারসহ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পরীক্ষা করে প্রকল্পটি বাস্তব প্রয়োজনের ভিত্তিতে গ্রহণ করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

‎স্থানীয়দের প্রশ্ন, বিদ্যালয়ে যদি নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম না থাকে কিংবা নির্মিত ভবন যথাযথভাবে ব্যবহার না হয়, তাহলে সরকারি অর্থ ব্যয়ে ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছিল?

‎তাদের মতে, সরকারি অর্থ মূলত জনগণের অর্থ। তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয়তা যাচাই থেকে শুরু করে প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়ন প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

এ অবস্থায় মল্লিকাদহ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি সরেজমিন তদন্ত করে প্রকৃত চিত্র প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে সরকারি অর্থে নির্মিত ভবনটি কেন তালাবদ্ধ, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীর বর্তমান অবস্থা কী এবং শিক্ষা কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে কি না এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট বক্তব্যও দাবি করেছেন তারা।

‎এ বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যথাযথভাবে সংযুক্ত করা হবে।

Share this news as a Photo Card