হাইতির প্রেসিডেন্ট হত্যাকাণ্ডে ১৮ সন্দেহভাজনকে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া হলো
- আপডেট সময় : ০৪:৩৩:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭ বার পড়া হয়েছে
হাইতির প্রেসিডেন্ট জোভেনেল মোইস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত ১৮ সন্দেহভাজনকে বিচারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নেওয়া হয়েছে। রোববার মার্কিন কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।২০২১ সালের ৭ জুলাই রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সে নিজের ব্যক্তিগত বাসভবনে গুলিতে নিহত হন ৫৩ বছর বয়সী জোভেনেল মোইস।
সামরিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রায় ২০ জন কলম্বিয়ান ভাড়াটে সৈন্যের একটি দল এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। ওই সময় প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে রক্ষায় কার্যকর কোনো হস্তক্ষেপ করেনি। এফবিআইয়ের বিশেষ এজেন্ট ব্রেট স্কাইলস বলেন, বিভিন্ন স্থানে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচালিত এসব গ্রেফতার এই ষড়যন্ত্রে জড়িত সবাইকে বিচারের আওতায় আনার বিষয়ে এফবিআইয়ের অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
ফেডারেল প্রসিকিউটর জেসন রেডিং কুইনোনস জানান, হাইতি থেকে সামরিক বিমানে করে ১৮ জনকে ফ্লোরিডার সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টে আনা হয়েছে, যেখানে তারা মার্কিন বিচারের মুখোমুখি হবেন।
তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের পাঁচ বছর পরও অভিযুক্তদের মার্কিন আদালতে হাজির করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে এবং তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত ৩০ জন সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।প্রধান সন্দেহভাজনদের একজন বাদিও হাইতি সরকার ও পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া ১৮ জনের মধ্যে রয়েছেন তদন্তের অন্যতম প্রধান সন্দেহভাজন জোসেফ ফেলিক্স বাদিও। তিনি হাইতির বিচার মন্ত্রণালয়ের সাবেক দুর্নীতি দমন কর্মকর্তা।
সূত্রগুলো জানায়, অন্যদের মধ্যে রয়েছেন কলম্বিয়ার ভাড়াটে সৈন্যরা।
গত মে মাসে মিয়ামির একটি ফেডারেল আদালত চারজনকে মোইসকে হত্যা বা অপহরণের ষড়যন্ত্র, বস্তুগত সহায়তা দেওয়ার ষড়যন্ত্র এবং বিদেশে অবৈধ সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।
ফেডারেল প্রসিকিউটরদের মতে, ওই চারজনই ফ্লোরিডাভিত্তিক বেসরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সিটিইউয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মোইসকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর লাভজনক চুক্তি পাওয়ার আশায় তাদের ষড়যন্ত্রে যুক্ত করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের পর আরও অস্থির হাইতি মোইস হত্যাকাণ্ডের পর হাইতি আরও গভীর রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকটে নিমজ্জিত হয়েছে। বর্তমানে দেশটিতে কোনো রাষ্ট্রপতি নেই।
নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে আগামী ১৩ ডিসেম্বর হাইতিতে ২০১৬ সালের পর প্রথম রাষ্ট্রপতি ও আইনসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে সংবিধানের ওপর একটি গণভোট আয়োজনেরও প্রস্তুতি চলছে।
দেশটির রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সের প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা গ্যাংগুলোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। মুক্তিপণের জন্য অপহরণ, সশস্ত্র ডাকাতি ও গাড়ি ছিনতাইসহ বিভিন্ন সহিংস অপরাধে জর্জরিত হাইতি।
স্থানীয় পুলিশকে গ্যাং দমনে সহায়তা করার জন্য জাতিসংঘ-সমর্থিত একটি সশস্ত্র বাহিনী কাজ করছে। তবে বাহিনীটি পরিকল্পনা অনুযায়ী অক্টোবরের আগে পূর্ণাঙ্গ জনবল পাবে না বলে চলতি মাসের শুরুতে এর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন।
সূত্র: বাসস























