ঢাকা ০৪:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo অর্থাভাবে থমকে যাওয়ার পথে শুভর পড়াশোনা, সহায়তায় এবিজি ফাউন্ডেশন Logo দেবীগঞ্জে স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পত্তি দখলের অভিযোগ  Logo বিদেশে পড়াশোনার সুযোগ জানতে বসছে আন্তর্জাতিক শিক্ষা মেলা Logo অটিজমে অবদান থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট, আন্তর্জাতিক দুই স্বীকৃতি ইয়াশা সোবহানের Logo বিশ্ববিদ্যালয় ফুটবলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও সম্প্রীতির মঞ্চ এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ Logo এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬ শুরু, উদ্বোধনে সাবেক তারকা ক্রিকেটাররা Logo ইউরোপে পোশাকের বাজারে মন্দাভাব, উদ্বেগে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা Logo ৩০ লাখ টাকার প্রাইজমানি, আজ শুরু মাঠের লড়াই Logo বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় জাপানের সহযোগিতা আরও বিস্তারের প্রত্যাশা Logo এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপের ক্রিকেট ও ফুটবল ম্যাচের সময়সূচি একনজরে

হোপ-রাদারফোর্ডের ঝড়ে ভারতকে উড়িয়ে সিরিজে সমতা ওয়েস্ট ইন্ডিজের

ক্রীড়া ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৭:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে

রান উৎসবের ম্যাচে ভারতকে ৬ উইকেটে হারিয়ে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে সমতা ফিরিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২৫০ রানের বিশাল লক্ষ্য দিয়েও পাড় পেল না ভারত। রান তাড়ায় রেকর্ড গড়েই জিতেছে ক্যারিবীয়রা। ৫০১ রানের রোমাঞ্চকর ম্যাচে ৬ উইকেটে জিতে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে সমতা ফেরাল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাঁচিতে শাই হোপ ও শেরফেন রাদারফোর্ডের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ৯ বল হাতে রেখে জয়ের বন্দরে পৌঁছায় তারা। লক্ষ্য তাড়ায় প্রথম চার বলেই জোড়া ধাক্কা খায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

কামিল পুরান ও শিমরন হেটমায়ারকে পরপর দুই বলে ফেরান মায়াঙ্ক ইয়াদাভ। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে রভম্যান পাওয়েলকেও ফিরিয়ে দেন তিনি। ৫৮ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে তখন বেশ চাপে সফরকারীরা।

সেখান থেকেই ম্যাচের চিত্র বদলে দেন হোপ ও রাদারফোর্ড। দুইজনই মাত্র ২৪ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন। চতুর্থ উইকেটে ৫৪ বলে ১২০ রানের জুটি গড়ে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন তারা। টি-টোয়েন্টিতে চতুর্থ উইকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের এটিই সর্বোচ্চ রানের জুটি।

১৫তম ওভারে ৩৭ বলে ৮৪ রান করা রাদারফোর্ডকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন কুলদীপ যাদব। তবে ততক্ষণে ম্যাচ হেলে পড়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিকে। যদিও জয়ের জন্য তখনো প্রয়োজন ছিল ৩৫ বলে ৭২ রান। এমন সময় হোপের সাথে যোগ দেন রোমারিও শেফার্ড।

দুইজনের যুগলবন্দীতে শেষ ১২ বলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়ের সমীকরণ নেমে আসে মাত্র ১০ রান। একই রান দরকার ছিল হোপেরও সেঞ্চুরির জন্য। এমতাবস্থায় ১৯তম ওভারের প্রথম ও তৃতীয় বলে ছক্কা হাঁকিয়ে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন অধিনায়ক। নিশ্চিত হয় দলের জয়ও।

৯ ছক্কা ও ৬ চারে ৪৫ বলে অপরাজিত ১০২ রান করেন হোপ। ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে ১৬২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলার পাঁচ দিন পর টি-টোয়েন্টিতেও সেঞ্চুরি করে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন তিনি। শেফার্ড ১৩ বলে ৩৪ রানে অপরাজিত থাকেন।

এর আগে ভারতের ইনিংসেও ছিল চার-ছক্কার ঝড়। ৬ রানে জীবন পাওয়া সঞ্জু স্যামসন শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন। ২১ বলে ফিফটি পূর্ণ করার পর ৪১ বলে ৮২ রান করে ফেরেন তিনি। তার সাথে ইশান কিষানের ৪৩ রানের জুটিতে ভারতের রান দ্রুত বাড়তে থাকে।
কিষান ২২ বলে ৪৩ রান করে চেইজের বলে ফেরেন। নিজের পরের ওভারেই শিবাম দুবেকেও ফিরিয়ে দেন এই অফ স্পিনার। চার ওভারে মাত্র ২৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে ভারতের রানবন্যার মাঝেও বোলিংয়ে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন চেইজ।

স্যামসন ফেরার পর শ্রেয়াস আইয়ার ও তিলাক ভার্মা ৩৩ বলে ৮৩ রানের ঝড়ো জুটি গড়েন। শ্রেয়াস ১৮ বলে ৪০ এবং তিলাক ১৮ বলে অপরাজিত ৪৪ রান করলে ভারত ২৪৯ রানে পৌঁছে যায়।

দুই ইনিংসে মোট ৫০১ রান হয়েছে এই ম্যাচে। দুই দল মিলে মেরেছে ৩৩টি ছক্কা। টি-টোয়েন্টির এক ম্যাচে এর চেয়ে বেশি রানের নজির আছে মাত্র একটি—২০০৯ সালে সেঞ্চুরিয়নে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচে হয়েছিল ৫১৭ রান।

এটি টি-টোয়েন্টিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়ায় জয়ের নজির। ২০২৩ সালে সেঞ্চুরিয়নে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২৫৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করে শীর্ষে আছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
ভারতের বিপক্ষেও এটি সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়। এর আগে কোনো দল ভারতের বিপক্ষে ২২৩ রানের বেশি লক্ষ্য তাড়া করে জিততে পারেনি। আগামী রোববার ইন্দোরে হবে সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টি।

Share this news as a Photo Card

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

09 October 2026

হোপ-রাদারফোর্ডের ঝড়ে ভারতকে উড়িয়ে সিরিজে সমতা ওয়েস্ট ইন্ডিজের

www.uttorersongbad.com

হোপ-রাদারফোর্ডের ঝড়ে ভারতকে উড়িয়ে সিরিজে সমতা ওয়েস্ট ইন্ডিজের

আপডেট সময় : ০৩:৩৭:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

রান উৎসবের ম্যাচে ভারতকে ৬ উইকেটে হারিয়ে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে সমতা ফিরিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২৫০ রানের বিশাল লক্ষ্য দিয়েও পাড় পেল না ভারত। রান তাড়ায় রেকর্ড গড়েই জিতেছে ক্যারিবীয়রা। ৫০১ রানের রোমাঞ্চকর ম্যাচে ৬ উইকেটে জিতে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে সমতা ফেরাল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাঁচিতে শাই হোপ ও শেরফেন রাদারফোর্ডের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ৯ বল হাতে রেখে জয়ের বন্দরে পৌঁছায় তারা। লক্ষ্য তাড়ায় প্রথম চার বলেই জোড়া ধাক্কা খায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

কামিল পুরান ও শিমরন হেটমায়ারকে পরপর দুই বলে ফেরান মায়াঙ্ক ইয়াদাভ। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে রভম্যান পাওয়েলকেও ফিরিয়ে দেন তিনি। ৫৮ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে তখন বেশ চাপে সফরকারীরা।

সেখান থেকেই ম্যাচের চিত্র বদলে দেন হোপ ও রাদারফোর্ড। দুইজনই মাত্র ২৪ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন। চতুর্থ উইকেটে ৫৪ বলে ১২০ রানের জুটি গড়ে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন তারা। টি-টোয়েন্টিতে চতুর্থ উইকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের এটিই সর্বোচ্চ রানের জুটি।

১৫তম ওভারে ৩৭ বলে ৮৪ রান করা রাদারফোর্ডকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন কুলদীপ যাদব। তবে ততক্ষণে ম্যাচ হেলে পড়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিকে। যদিও জয়ের জন্য তখনো প্রয়োজন ছিল ৩৫ বলে ৭২ রান। এমন সময় হোপের সাথে যোগ দেন রোমারিও শেফার্ড।

দুইজনের যুগলবন্দীতে শেষ ১২ বলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়ের সমীকরণ নেমে আসে মাত্র ১০ রান। একই রান দরকার ছিল হোপেরও সেঞ্চুরির জন্য। এমতাবস্থায় ১৯তম ওভারের প্রথম ও তৃতীয় বলে ছক্কা হাঁকিয়ে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন অধিনায়ক। নিশ্চিত হয় দলের জয়ও।

৯ ছক্কা ও ৬ চারে ৪৫ বলে অপরাজিত ১০২ রান করেন হোপ। ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে ১৬২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলার পাঁচ দিন পর টি-টোয়েন্টিতেও সেঞ্চুরি করে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন তিনি। শেফার্ড ১৩ বলে ৩৪ রানে অপরাজিত থাকেন।

এর আগে ভারতের ইনিংসেও ছিল চার-ছক্কার ঝড়। ৬ রানে জীবন পাওয়া সঞ্জু স্যামসন শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন। ২১ বলে ফিফটি পূর্ণ করার পর ৪১ বলে ৮২ রান করে ফেরেন তিনি। তার সাথে ইশান কিষানের ৪৩ রানের জুটিতে ভারতের রান দ্রুত বাড়তে থাকে।
কিষান ২২ বলে ৪৩ রান করে চেইজের বলে ফেরেন। নিজের পরের ওভারেই শিবাম দুবেকেও ফিরিয়ে দেন এই অফ স্পিনার। চার ওভারে মাত্র ২৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে ভারতের রানবন্যার মাঝেও বোলিংয়ে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন চেইজ।

স্যামসন ফেরার পর শ্রেয়াস আইয়ার ও তিলাক ভার্মা ৩৩ বলে ৮৩ রানের ঝড়ো জুটি গড়েন। শ্রেয়াস ১৮ বলে ৪০ এবং তিলাক ১৮ বলে অপরাজিত ৪৪ রান করলে ভারত ২৪৯ রানে পৌঁছে যায়।

দুই ইনিংসে মোট ৫০১ রান হয়েছে এই ম্যাচে। দুই দল মিলে মেরেছে ৩৩টি ছক্কা। টি-টোয়েন্টির এক ম্যাচে এর চেয়ে বেশি রানের নজির আছে মাত্র একটি—২০০৯ সালে সেঞ্চুরিয়নে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচে হয়েছিল ৫১৭ রান।

এটি টি-টোয়েন্টিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়ায় জয়ের নজির। ২০২৩ সালে সেঞ্চুরিয়নে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২৫৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করে শীর্ষে আছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
ভারতের বিপক্ষেও এটি সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়। এর আগে কোনো দল ভারতের বিপক্ষে ২২৩ রানের বেশি লক্ষ্য তাড়া করে জিততে পারেনি। আগামী রোববার ইন্দোরে হবে সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টি।

Share this news as a Photo Card