শেফালির রানও টপকাতে পারেনি টাইগ্রেসরা
- আপডেট সময় : ০৪:২৪:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭ বার পড়া হয়েছে
এক শেফালি ভার্মার রানও টপকাতে পারল না বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। এশিয়ান গেমসের নারী ক্রিকেটের সেমিফাইনালে ভারতকে বড় লক্ষ্য দিয়েও প্রতিরোধ গড়তে পারেনি নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। শেফালির দুর্দান্ত সেঞ্চুরির ওপর ভর করে ভারত জিতেছে ১১৪ রানের বিশাল ব্যবধানে।
নিশিনের কোরোগি স্পোর্টস পার্কে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই ঝড় তোলে ভারত। শেফালি ভার্মা ও স্মৃতি মান্ধানা মিলে পাওয়ারপ্লের প্রথম ছয় ওভারেই তুলে নেন ৭২ রান। পাওয়ারপ্লের শেষ বলে নাহিদা আক্তারের শিকার হয়ে ৩৭ রানে ফেরেন মান্ধানা। তবে তাতে ভারতের রানের গতি কমেনি।
এরপর হারমানপ্রীত কৌরকে সঙ্গে নিয়ে শেফালি গড়েন ৯৪ রানের ঝোড়ো জুটি। মাত্র ২৪ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৪৯ বলে পৌঁছে যান তিন অঙ্কে। শেষ ওভারের চতুর্থ বলে এক রান নিয়ে ৯৯-এ পৌঁছানোর পর শেষ বলেও এক রান নিয়ে পূর্ণ করেন সেঞ্চুরি।
শেফালির ইনিংসে ছিল ৯টি ছক্কা ও ৩টি চার। তাঁর ব্যাটে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ভারত তোলে ৪ উইকেটে ১৯৫ রান।
বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সানজিদা আক্তার মেঘলা ৪ ওভারে ২৫ রান দিয়ে নেন একটি উইকেট। রাবেয়া, মারুফা ও নাহিদা আক্তারও একটি করে উইকেট পেলেও ভারতের রানের গতি থামাতে পারেননি।
ব্যাটিংয়ে শুরুতেই বিপর্যয় ১৯৬ রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ। পাওয়ারপ্লের মধ্যেই হারায় তিন উইকেট। স্কোরবোর্ডে তখন মাত্র ৩৮ রান। এরপর ৪৯ রানেই পড়ে যায় পঞ্চম উইকেট।
বাংলাদেশের প্রথম সাত ব্যাটারের মধ্যে দিলারা আক্তার ও শারমিন আক্তার ছাড়া কেউ দুই অঙ্কের রান করতে পারেননি। দিলারা ২৩ বলে ২৭ রান করে কিছুটা আশা জাগিয়েছিলেন। তাঁর ইনিংসে ছিল চারটি চার ও একটি ছক্কা। কিন্তু তাঁর বিদায়ের পর দ্রুতই ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের ইনিংস।
শেষ পর্যন্ত ১৫.৪ ওভারে মাত্র ৮১ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। সুলতানা খাতুন ১২ রানে অপরাজিত থাকেন।
ভারতের হয়ে দীপ্তি শর্মা ও নন্দিনী শর্মা নেন তিনটি করে উইকেট। শ্রী চরণী পান দুটি উইকেট।
এখন ব্রোঞ্জের লড়াই এই হার বাংলাদেশের জন্য আরেকটি হতাশাজনক সেমিফাইনাল। এর আগে এশিয়া কাপের সেমিফাইনালেও ভারতের কাছে হেরেছিল বাংলাদেশ। এবার এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালেও একই প্রতিপক্ষের কাছে বড় ব্যবধানে হারল নিগার সুলতানার দল।
তবে বাংলাদেশের পদকের আশা এখনো শেষ হয়ে যায়নি। আগামী ২২ সেপ্টেম্বর ব্রোঞ্জ পদকের লড়াইয়ে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে জয় পেলেই সেমিফাইনালের হতাশা কাটিয়ে এশিয়ান গেমস থেকে পদক নিয়ে ফিরতে পারবে টাইগ্রেসরা।
আর ম্যাচটি হতে যাচ্ছে টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে নিগার সুলতানা জ্যোতির শেষ ম্যাচ।
ভারতের বিপক্ষে সেমিফাইনালের গল্প শেষ হয়েছে হতাশায়। তবে এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের গল্প এখনো শেষ হয়নি।






















