রাতের এশা, সকালে নেই মসজিদ—পদ্মায় বিলীন ইমাম আবু হানিফা জামে মসজিদ
- আপডেট সময় : ০৮:৩৭:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬৯ বার পড়া হয়েছে
মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার দেওয়ানকান্দি এলাকায় পদ্মা নদীর তীব্র স্রোত ও ভয়াবহ ভাঙনে আস্ত একটি মসজিদ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে ওই মসজিদে এশার নামাজ আদায় করে ঘুমাতে যান মুসল্লিরা। কিন্তু ভোরে ফজরের নামাজ পড়তে এসে দেখেন, মসজিদটির আর কোনো অস্তিত্ব নেই।
নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়া মসজিদটির নাম ইমাম আবু হানিফা জামে মসজিদ। এটি সদর উপজেলার রাকিরকান্দি এলাকার মাদানী কমপ্লেক্স মাদরাসার সঙ্গে সংযুক্ত ছিল।
স্থানীয়রা জানান, কয়েক দিন ধরে পদ্মা নদীতে পানির স্রোত বৃদ্ধি পাওয়ায় দেওয়ানকান্দি, রাকিরকান্দি ও পূর্বরাখী এলাকায় তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে বালুর বস্তা ফেলে অস্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হলেও প্রবল স্রোতে এর বড় একটি অংশ ধসে গেছে।
মাদানী কমপ্লেক্স মাদরাসার ছাত্র সোহেল বলেন, “শুক্রবার রাতে আমরা মসজিদে এশার নামাজ পড়ে মাদরাসার ভেতরে ঘুমিয়ে ছিলাম। পরে ফজরের নামাজ পড়তে এসে দেখি মসজিদটি নেই, নদীতে ভেঙে গেছে। এখন আমরা খোলা মাঠে নামাজ আদায় করছি।”
স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান দুদু অভিযোগ করে বলেন, কিছু অসাধু ব্যক্তি ড্রেজার দিয়ে অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটায় নদী গভীর হয়ে ভাঙন তীব্র হয়েছে।
মাদানী কমপ্লেক্স মাদরাসার সহকারী শিক্ষক মো. খালেক সাইফুল বলেন, “প্রায় পাঁচ বছর ধরে এই এলাকায় নদীভাঙন চলছে। আমাদের মাদরাসার প্রায় ১০০ শতাংশ জমি ইতোমধ্যে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে এখানে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের কথা শুনছি, কিন্তু কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখছি না। মানুষের বাড়িঘর, মসজিদ—সবই পদ্মায় চলে যাচ্ছে।”
এদিকে শুধু সদর উপজেলাই নয়, টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বানারী এলাকাতেও তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীর স্রোত বেড়ে যাওয়ায় ছোট নৌযান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. হোসেন লিটন খান বলেন, “পদ্মার ভাঙন থেকে আমরা মুক্তি পাচ্ছি না। মাদানী কমপ্লেক্সের মসজিদসহ অনেক জায়গা নদীতে বিলীন হয়েছে। প্রতি বছর এখানে বড় মাহফিল হয়। সেই মাহফিলের মাঠটিও নদীতে চলে গেছে। প্রতিষ্ঠানটি রক্ষায় এখানে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।”
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা জামাল বলেন, কয়েক বছর আগেও নদীটি তুলনামূলক ছোট ছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে ভাঙনে আশপাশের বহু বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয়েছে। অনেকে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। এখন মাদরাসার মসজিদটিও নদীতে বিলীন হয়ে গেল।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভাঙনকবলিত দেওয়ানকান্দি এলাকা পরিদর্শন করেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের এমপি কামরুজ্জামান রতন ও জেলা প্রশাসক নুর মহল আশরাফী। এ সময় তারা বালুর বস্তা ফেলে ভাঙনরোধে অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন।
মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক নুর মহল আশরাফী বলেন, “ভাঙনরোধে আমরা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীদের নিয়ে ভাঙনের হুমকিতে থাকা ৪০০ মিটার এলাকায় কাজ করছি।”
মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের এমপি কামরুজ্জামান রতন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে রয়েছে। তীব্র স্রোতে একটি মসজিদ নদীতে বিলীন হয়েছে। ভাঙনরোধে সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
মুন্সীগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শেখ এনামুল হক বলেন, পদ্মা নদীতে পানির স্রোত বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে সাধ্যমতো কাজ করা হচ্ছে।





















