ডিজিটাল নিরাপত্তা ও এআই নিয়ে বাংলাদেশ-সুইডেনের সহযোগিতার আলোচনা
- আপডেট সময় : ১২:১২:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
ডিজিটাল রূপান্তর, সাইবার নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে বাংলাদেশ ও সুইডেনের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস।

রোববার ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি ডিজিটাল জনপরিকাঠামো, নিরাপদ ডিজিটাল পরিচয়ব্যবস্থা, অনলাইন আর্থিক লেনদেন এবং প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে ‘ওয়ান আইডি–ওয়ান ওয়ালেট’ উদ্যোগ, নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা এবং নিরাপদ ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকিং ও পরিচয়প্রযুক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর জোর দেন উভয় পক্ষ।
মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ডিজিটাল সেবা ও অবকাঠামো সম্প্রসারণের পাশাপাশি নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা এবং সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিশেষজ্ঞ, গণমাধ্যম ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, সাইবার নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্য মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বা গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করা নয়। বরং অনলাইন হয়রানি, অপপ্রচার, ক্ষতিকর কনটেন্ট এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার মোকাবিলা করা। প্রস্তাবিত আইন ও নীতিমালা প্রণয়নে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, নাগরিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি পূর্ণ সম্মান রাখা হবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনায় মন্ত্রী বলেন, এআইয়ের সুফল কাজে লাগানোর পাশাপাশি কর্মসংস্থান, মানবসম্পদ উন্নয়ন, তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা এবং প্রযুক্তির নৈতিক ব্যবহারের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে হবে। বিশেষ করে তরুণ ও নতুন স্নাতকদের প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা বাড়িয়ে ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা জরুরি।
সুইডেনের রাষ্ট্রদূত এ ক্ষেত্রে সরকার, বেসরকারি খাত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বাংলাদেশের ডিজিটাল জনপরিকাঠামো উন্নয়ন ও সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে সুইডেনের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
রাষ্ট্রদূত বলেন, গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল অবকাঠামো, টেলিযোগাযোগ, সাইবার নিরাপত্তা ও উচ্চপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা এবং বিনিয়োগ সম্প্রসারণে পূর্বানুমেয় নিয়ন্ত্রক পরিবেশ, সমান প্রতিযোগিতার সুযোগ ও বহুমুখী প্রযুক্তি অংশীদারত্ব প্রয়োজন।
বৈঠকে শিশু-কিশোরদের নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে অভিভাবকদের ভূমিকা এবং ডিজিটাল শিক্ষার বিষয়েও আলোচনা হয়। অনলাইন নিরাপত্তা ও দায়িত্বশীল ডিজিটাল নাগরিকত্ব গড়ে তুলতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্র এবং প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোর সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন উভয় পক্ষ।
এ সময় সুইডেন দূতাবাসের প্রথম সচিব ওলি লুন্ডিন উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে ডিজিটাল প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তি খাতে দুই দেশের সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।














