ঢাকা ০৪:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo যথাযথ তদন্ত ছাড়াই শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের শাস্তি, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ Logo দেবীগঞ্জে মাদকাসক্ত ছেলের বিরুদ্ধে মায়ের অভিযোগ, প্রশাসনের সহায়তা কামনা Logo বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ফুটবল উৎসবে পর্দা নামল এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপের Logo দেবীগঞ্জে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদ্‌যাপনে প্রস্তুতিমূলক সভা  Logo উত্তর কোরিয়ার হ্যাকারদের টার্গেট বাইন্যান্স, চুরি ৬৩০ কোটি ডলারের সম্পদ Logo মাদক নির্মূল করতে পারলেই নিরাপদ হবে বাংলাদেশ Logo দেবীগঞ্জে  তরুণদের অধিকার ও ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা সভা  Logo দেবীগঞ্জে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৩ Logo ফুটপাতের অবৈধ ব্যবসায় বিপাকে শপিং মল, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার Logo দেবীগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যালে শতভাগ অকৃতকার্য, ১৭ শিক্ষকেও পাস করেনি কেউ

দেবীগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যালে শতভাগ অকৃতকার্য, ১৭ শিক্ষকেও পাস করেনি কেউ

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • আপডেট সময় : ১২:২৭:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬ ২৭ বার পড়া হয়েছে

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজে ২০২৬ সালের এইচএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৩ শিক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানটিতে ১৭ জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় শিক্ষার মান ও শিক্ষক সংকট নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর প্রতিষ্ঠানটির এমন ফলাফলের বিষয়টি সামনে আসে।

প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালে প্রতিষ্ঠানটি থেকে প্রথমবারের মতো ১৩ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের সবাই এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। এর মধ্যে ১২ জন ইলেকট্রিক্যাল ওয়ার্কস অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স এবং একজন ইলেকট্রনিক কন্ট্রোল অ্যান্ড কমিউনিকেশন ট্রেডের শিক্ষার্থী।

প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, দেবীগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজে অধ্যক্ষসহ অনুমোদিত শিক্ষকের পদ রয়েছে ৪৬টি। এর বিপরীতে বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১৭ জন। ফলে অনুমোদিত পদের বিপরীতে শূন্য রয়েছে ২৯টি পদ। দীর্ঘদিনের এই শিক্ষক সংকট পাঠদান কার্যক্রমে প্রভাব ফেলছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মোস্তফা কামাল বলেন, ‘আমি চলতি বছরের মে মাসে এখানে যোগদান করেছি। যোগদানের এক মাস পরই পরীক্ষা শুরু হয়। ফলাফল বিপর্যয়ের পেছনে মূল সমস্যা ছিল শিক্ষক সংকট। আমাদের শিক্ষক পদ ৪৬টি থাকলেও কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১৭ জন।’

এ বিষয়ে পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সোহেল সুলতান জুলকারনাইন কবির বলেন, ‘জেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে। যেসব প্রতিষ্ঠানের ফলাফল খারাপ হয়েছে, সেগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে কীভাবে ফলাফল ভালো করা যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে।’

উল্লেখ্য, ২০২১ সালে দেবীগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। একই বছর বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে প্রতিষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। ২০২২ শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ ও নবম শ্রেণিতে ভোকেশনাল কোর্সের মাধ্যমে নিয়মিত পাঠদান শুরু হয়। প্রতিষ্ঠানটির প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ২০২৬ সালে প্রথমবারের মতো এইচএসসি (ভোকেশনাল) পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নেয়।

Share this news as a Photo Card

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

01 November 2026

দেবীগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যালে শতভাগ অকৃতকার্য, ১৭ শিক্ষকেও পাস করেনি কেউ

www.uttorersongbad.com

দেবীগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যালে শতভাগ অকৃতকার্য, ১৭ শিক্ষকেও পাস করেনি কেউ

আপডেট সময় : ১২:২৭:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজে ২০২৬ সালের এইচএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৩ শিক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানটিতে ১৭ জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় শিক্ষার মান ও শিক্ষক সংকট নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর প্রতিষ্ঠানটির এমন ফলাফলের বিষয়টি সামনে আসে।

প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালে প্রতিষ্ঠানটি থেকে প্রথমবারের মতো ১৩ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের সবাই এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। এর মধ্যে ১২ জন ইলেকট্রিক্যাল ওয়ার্কস অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স এবং একজন ইলেকট্রনিক কন্ট্রোল অ্যান্ড কমিউনিকেশন ট্রেডের শিক্ষার্থী।

প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, দেবীগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজে অধ্যক্ষসহ অনুমোদিত শিক্ষকের পদ রয়েছে ৪৬টি। এর বিপরীতে বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১৭ জন। ফলে অনুমোদিত পদের বিপরীতে শূন্য রয়েছে ২৯টি পদ। দীর্ঘদিনের এই শিক্ষক সংকট পাঠদান কার্যক্রমে প্রভাব ফেলছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মোস্তফা কামাল বলেন, ‘আমি চলতি বছরের মে মাসে এখানে যোগদান করেছি। যোগদানের এক মাস পরই পরীক্ষা শুরু হয়। ফলাফল বিপর্যয়ের পেছনে মূল সমস্যা ছিল শিক্ষক সংকট। আমাদের শিক্ষক পদ ৪৬টি থাকলেও কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১৭ জন।’

এ বিষয়ে পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সোহেল সুলতান জুলকারনাইন কবির বলেন, ‘জেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে। যেসব প্রতিষ্ঠানের ফলাফল খারাপ হয়েছে, সেগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে কীভাবে ফলাফল ভালো করা যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে।’

উল্লেখ্য, ২০২১ সালে দেবীগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। একই বছর বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে প্রতিষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। ২০২২ শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ ও নবম শ্রেণিতে ভোকেশনাল কোর্সের মাধ্যমে নিয়মিত পাঠদান শুরু হয়। প্রতিষ্ঠানটির প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ২০২৬ সালে প্রথমবারের মতো এইচএসসি (ভোকেশনাল) পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নেয়।

Share this news as a Photo Card